পাটুলিতে বৃদ্ধা রহস্যমৃত্যুর কিনারা, মাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ছেলে

পাটুলিতে ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মালবিকা মৈত্রের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার কিনারা হল অবশেষে। রবিবার পাটুলি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন বৃদ্ধার ছেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় ওই ব্যাঙ্ককর্মী স্বীকার করেছেন যে তিনিই তার মাকে খুন করেছেন।

গত বুধবার পাটুলির বিদ্যাসাগর কলোনির একটি ফ্ল্যাট থেকে মালবিকা মৈত্রের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বৃদ্ধাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য ঘরের মধ্যেই তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকেই মালবিকা দেবীর ছেলে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মালবিকা দেবীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ছিল। তদন্তের স্বার্থে সেই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়, যাতে অভিযুক্ত ছেলে সেই টাকা তুলতে না পারে। যদিও প্রথম দিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল এবং মৃতের ছেলেই খুনি কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে রবিবার দুপুরে মৃতার ছেলে নিজেই পাটুলি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন এবং মাকে খুনের কথা স্বীকার করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় তিনি জানিয়েছেন টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই তিনি তার মাকে খুন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালবিকা মৈত্র পাটুলির বিদ্যাসাগর কলোনির একটি ফ্ল্যাটে তার ছেলের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন, বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই দমকলে খবর দেন। ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। দমকল ও পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে।

মাকে খুনের কথা স্বীকার করার পর পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আর্থিক বিবাদের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।