রাতে ফের ভূমিকম্প মায়ানমারে, মৃত্যু আরো কয়েকজনের! সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো ভারত

মায়ানমারের মান্দালয় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুক্রবারের এই ভূমিকম্প শুধু মায়ানমারেই নয়, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামেও অনুভূত হয়েছিল। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ফের কেঁপে ওঠে মায়ানমারের কিছু অংশ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ২৮ মার্চ রাত ১১টা ৫৬ মিনিটে ফের একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪.২ ছিল।
মায়ানমারে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৬৯৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৭০ জন। সামরিক জুন্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন।
ভারত ইতোমধ্যে ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, যা বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে করে মায়ানমারে পৌঁছেছে। এই ত্রাণের মধ্যে রয়েছে তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, কম্বল, রেডি-টু-ইট মিল, ওয়াটার পিউরিফায়ার, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প, জেনারেটর সেট, ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী।
মায়ানমারের সামরিক সরকারের মতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মান্দালয়ের রাস্তা ফেটে গেছে, মহাসড়ক, সেতু ও বাঁধ ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারীদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রা জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ককের প্রতিটি ভবন পরিদর্শন করা হবে। এদিকে, ভারত ছাড়াও ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মায়ানমারকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ ইতিমধ্যেই ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে অন্তত ১৫ বার কেঁপেছে মায়ানমারের মাটি। প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৭ রিখটার স্কেলে, যার পরবর্তী ১০ ঘণ্টার মধ্যে ১৪টি আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.৭। এখনো উদ্ধারকাজ চলছে, তবে ঠিক কত ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।