দুর্বল হচ্ছে BJP সংগঠন! রায়গঞ্জে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান–সহ ৭ সদস্য যোগ দিলেন তৃণমূলে

যত দিন গড়াচ্ছে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন দুর্বল হচ্ছে। একের পর এক নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। সম্প্রতি হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল তৃণমূলে নাম লেখানোর পর, এবার রায়গঞ্জের রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বড়সড় ভাঙন দেখা গেল।

রবিবার রামপুরে এক কর্মসূচিতে বিজেপির উপপ্রধান ফুলমণি মার্ডি-সহ ৭ জন পঞ্চায়েত সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল।

এই যোগদানের ফলে রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২-তে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ক্রমশই দলত্যাগের জেরে তৃণমূলের সংখ্যা বাড়ছে, আর বিজেপির দখল কমছে।

তৃণমূলের রায়গঞ্জ-২ সাংগঠনিক ব্লকের সভাপতি দীপঙ্কর বর্মন জানিয়েছেন,”রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৬টি আসন রয়েছে। প্রথমে ৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। গত তিন মাসে একজন বিজেপি সদস্য যোগ দেন, এবার আরও ৭ জন যোগ দিলেন। ফলে এখন তৃণমূলের সংখ্যা ১২।”

এখানেই শেষ নয়। জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক কংগ্রেস সদস্যও এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে আরও কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিরোধী শিবির ভাঙতে চলেছে।

এই দলবদল নিয়ে বিজেপি সরাসরি মুখ না খুললেও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, বিজেপি ছেড়ে আসা রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বলেন,”বিজেপি উন্নয়ন নিয়ে কোনও কাজ করছে না। তাই মানুষের স্বার্থেই আমরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।”

এই দলত্যাগ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।