ট্রাম্প সমর্থনকারীর স্ত্রীকে গ্রেফতার”, হানিমুন সেরে ফিরতেই আটোক করলো পুলিশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবার আঘাত হেনেছে উইসকনসিনের এক দম্পতির জীবনে। পেরু বংশোদ্ভূত ক্যামিলা মুনোজ এবং তাঁর আমেরিকান স্বামী ব্র্যাডলি বার্টল সম্প্রতি তাদের জীবনে এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। নতুন বিয়ে করে মধুচন্দ্রিমা কাটিয়ে ফেরার পরই ক্যামিলাকে ভিসা সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করে ট্রাম্প প্রশাসনের পুলিশ।
জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ব্র্যাডলি এবং ক্যামিলা পুয়ের্তো রিকোতে তাদের হানিমুন কাটান। সেখান থেকে ফেরার পরই ক্যামিলাকে গ্রেফতার করা হয়। ক্যামিলা ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে আমেরিকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে কাজও করছিলেন। তবে তাঁর ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির কারণে তাঁকে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় ব্র্যাডলি বার্টল ভেঙে পড়েননি, বরং তিনি আইনি লড়াই শুরু করেছেন। যদিও আইনি লড়াইয়ের চেয়েও তাঁকে বেশি সংগ্রাম করতে হচ্ছে সামাজিক স্তরে। ক্যামিলার গ্রেফতারের পর থেকেই ব্র্যাডলির কাছে ঘৃণা এবং বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা আসতে শুরু করে। অনেকেই তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন।
ব্র্যাডলি, যিনি ট্রাম্পের সমর্থক এবং ২০১৬ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি জানান যে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন। তিনি বলেন, “আমি ভোটের সময় যা করেছি, তা নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। আমি মনে করি ট্রাম্প দেশের জন্য সঠিক কাজ করছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতি আমার পরিবারের জন্য খুবই কঠিন।”
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ ব্র্যাডলি এবং ক্যামিলাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। ব্র্যাডলির কাছে আসা ঘৃণার বার্তাগুলি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্র্যাডলি এবং ক্যামিলার মতো অনেক পরিবারই এই নীতির কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।
এদিকে, ব্র্যাডলি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রীকে মুক্ত করার জন্য। তবে এই লড়াই কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির একটি প্রতিচ্ছবি, যা অনেকের জীবনকে প্রভাবিত করছে।