অভিষেকের ‘অধিনায়ক’ পোস্টারের পর এবার ছেয়ে গেল মমতার ‘সর্বাধিনায়িকা’ পোস্টার, তুঙ্গে জল্পনা

অভিষেকের নামে পোস্টার ঘিরে শুক্রবার দিনভর চলেছে জল্পনা। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে একাধিক পোস্টার, যেখানে লেখা ছিল ‘অধিনায়ক অভিষেক’। শুধু পোস্টারই নয়, হলুদ পতাকাও উড়তে দেখা গিয়েছে, যার গায়েও একই লেখা। পোস্টারের নিচে তৃণমূল সমর্থকদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের নামও উল্লেখ ছিল।
তবে এই ঘটনা নিয়ে চর্চা চলতে থাকতেই শুক্রবার রাতেই আরও একটি নতুন পোস্টারে ছেয়ে যায় এলাকা। সেখানে লেখা ছিল— ‘সর্বাধিনায়িকা মমতা’। রাত ১০টার পর থেকেই যাদবপুরের এইট বি বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নতুন পোস্টার লাগানো শুরু হয়। যেখানে যেখানে অভিষেকের পোস্টার ছিল, সেখানেই তৃণমূল সুপ্রিমোর ছবিসহ পোস্টার লাগানো হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিতর্ক মেটাতেই কি মমতার নামে পোস্টার দেওয়া হল?
অভিষেকের নামে পোস্টার পড়তেই শুরু হয় নানা জল্পনা। যদিও তৃণমূল এই বিষয়টিকে বিতর্ক হিসেবে দেখতে নারাজ। ২৩ মার্চ ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসতে চলেছে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া টিম, আর তার আগেই এই পোস্টার ও পতাকা নজরে আসে। তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “তৃণমূলের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মধ্যে ‘FAM’ অন্যতম। ‘অধিনায়ক অভিষেক’ হল সেই সংগঠনেরই একটি শাখা। তাই এই পোস্টার ও পতাকা দেওয়া হয়েছে।”
তবে বিরোধীরা একে সহজভাবে নিচ্ছে না। কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় কটাক্ষ করে বলেন, “এভাবে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল আসলে কার? অধিনায়কের নাকি সর্বাধিনায়িকার? এসবের মাঝে রাজ্যের উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে।” বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “যার টাকা আছে, সে পোস্টার লাগাচ্ছে। আসল কাজ বাদ দিয়ে এখন পোস্টারের রাজনীতি শুরু হয়েছে। পোস্টার লাগানোর বদলে যাদবপুরে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই উচিত।”