“৮ দেশে ৪৯ ভারতীয়কে মৃত্যুদণ্ড, বন্দি ১০ হাজারের বেশি”- রিপোর্টে জানাল কেন্দ্র

বিদেশের কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজার ১৫২ জন ভারতীয় বন্দি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন। তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ২৫ জন ভারতীয়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যদিও এখনও তা কার্যকর হয়নি।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী রাজ্যসভায় বলেন, ‘‘বিদেশের জেলে থাকা সমস্ত ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ভারতীয় দূতাবাস এবং অন্যান্য কূটনৈতিক দপ্তরগুলি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য বন্দিদের সর্বাত্মক সাহায্য করছে। তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্চতর আদালতে আবেদন বা প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতেও সাহায্য করা হচ্ছে।’’
রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কুয়েত এবং সৌদি আরবে ৬ জন ভারতীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ২০২৩ সালে কুয়েত এবং সৌদি আরবে ১০ জন, মালয়েশিয়ায় ১ জন এবং ২০২৪ সালে জিম্বাবোয়েতে ১ জন ভারতীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও তথ্য না পাওয়া গেলেও, ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সেখানে কোনও ভারতীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে ১১ জন, মালয়েশিয়ায় ৬ জন, কুয়েতে ৩ জন এবং ইন্দোনেশিয়া, কাতার, আমেরিকা ও ইয়েমেনে ১ জন করে ভারতীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাকি রয়েছে।
গত মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে একই দিনে তিন জন ভারতীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাঁরা হলেন উত্তরপ্রদেশের শাহজাদি খান, কেরালার মুহাম্মদ রিনাশ অরঙ্গিলোত্তু এবং মুরলীধরন পেরামতত্ত ভেলাপ্পিল। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বন্দি ভারতীয়দের নিয়ে কেন্দ্রের এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের আইনি সুরক্ষা এবং অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন আরও জানান, কেন্দ্র বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় দূতাবাসগুলি নিয়মিতভাবে বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও আপডেট দেওয়া হয়। আমরা চাই, বিদেশে থাকা প্রতিটি ভারতীয় নিরাপদ এবং সম্মানজনক জীবনযাপন করুক।’’
এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এখন সকলের চোখ কেন্দ্রের দিকে, তারা কীভাবে বিদেশে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।