‘শাসক এখন ঘাতক’-অভিষেককে মারের ভিডিও শেয়ার করে যা লিখলেন মমতা

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে যেভাবে তাঁকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) হামলার ভিডিও শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “শাসক হয়ে গেল ঘাতক। বিজেপি-কে ধিক্কার।”
‘মেরে দিক, তবুও নড়ব না’: গর্জে উঠলেন অভিষেক হামলার মুখে পড়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবিচল ছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হেলমেট না থাকলে আজ আমার মাথা দু’টুকরো হয়ে যেত। আমার চোখে সাতবার অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেখানেও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশি নিরাপত্তা না আসা পর্যন্ত তিনি ওই স্থান ত্যাগ করবেন না। তাঁর কথায়, “মেরে দিক, তবুও আমি জায়গা ছেড়ে যাব না। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরোবে।” শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক অভিষেকের ওপর এই হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে। তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ব যেমন কুণাল ঘোষ এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
RULERS BECAME KILLERS- shame on you BJP https://t.co/DHNsnDAc9a
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 30, 2026
এদিকে, বিরোধী শিবিরেও এই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সুর শোনা গেছে:
-
কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
-
সিপিআইএম: সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বললেও, তিনি একটি বিশেষ কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সেলিমের কথায়, “উনি এর আগে পুলিশের প্রহরায় যে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, তা যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও তেমন কাম্য নয়। তবে বিজেপি-আরএসএস তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রাখার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়।”
বিজেপি অবশ্য আগেই জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো যোগ নেই এবং এটি রাজ্যবাসীর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।