কানাডার ভিসা নিয়মে পরিবর্তন, সমস্যা বাড়াবে কি ভারতীয়দের জন্যে? জেনেনিন বিস্তারিত

কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও, সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির পরিবর্তন তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কানাডা সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যা বিশেষত ভারতীয় এবং অন্যান্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা
কানাডার ফেডারেল সরকার ২০২৪ সালে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ৩৫% কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং ২০২৫ সালে আরও ১০% হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কমতে পারে এবং অনেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা-পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারেন।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি থেকে সীমান্ত কর্মকর্তারা অস্থায়ী বসবাসের নথি (TRV এবং eTA) বাতিল করতে পারবেন। এর ফলে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কানাডায় আসা কর্মী ও দর্শনার্থীরাও প্রভাবিত হতে পারেন।

সরকারের যুক্তি: অর্থনীতি ও আবাসন সংকট
কানাডার সরকার বলছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতি, আবাসন সংকট এবং জনসেবার ওপর চাপ কমানো। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

TRU গবেষণায় উঠে আসা বাস্তব চিত্র
থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির (TRU) গবেষণায় দেখা গেছে,

৫৫% শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে পড়েছেন এবং ভাড়া বাজারে বর্ণগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না।
চাকরি খোঁজার সময় অনেক শিক্ষার্থী বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন।
২০১৬ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ক্যাম্পাসে বর্ণবাদের হার কমেছে, তবে চাকরি ও বাসস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী?
কানাডার নতুন অভিবাসন নীতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করলেও, সরকার একে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে মনে করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত করতে পারে এবং কানাডার বৈচিত্র্যময় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কি কানাডায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারাবে, নাকি নতুন নীতির সাথে খাপ খাইয়ে নেবে? সময়ই এর উত্তর দেবে।