AC-3 টিয়ারের চাহিদা বাড়ছে কমছে স্লিপারের, রেলের কোষাগারেও পড়ছে বড় প্রভাব

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এসি থ্রি-টিয়ার। কোভিড অতিমারি পরবর্তী সময়ে এই শ্রেণির যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেলের মোট যাত্রী আয়ের এক তৃতীয়াংশ এসেছে এসি থ্রি-টিয়ার থেকে। রেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে মোট প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ ৮০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ হাজার ৮৯ কোটি টাকা এসেছে এসি থ্রি-টিয়ার থেকে। এই সময়ে এসি থ্রি-টিয়ার কামরায় যাতায়াত করেছেন ২৬ কোটি যাত্রী, যেখানে মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল ৭২৭ কোটি। অর্থাৎ, মোট যাত্রীদের মাত্র ৩.৫ শতাংশ এসি থ্রি-টিয়ারে যাত্রা করলেও, মোট যাত্রী আয়ের ৩৮ শতাংশ এসেছে এই শ্রেণি থেকে।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এসি থ্রি-টিয়ার যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১১ কোটি, যা তখনকার মোট যাত্রী সংখ্যার মাত্র ১.৪ শতাংশ। সে সময় এই শ্রেণি থেকে রেলের আয় ছিল ১২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই আয় বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। এই হিসাবে এসি থ্রি-টিয়ারের বার্ষিক যৌগিক বৃদ্ধির হার (CAGR) ১৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১৯ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কোভিড অতিমারির আগে সর্বাধিক যাত্রী আয় আসত স্লিপার ক্লাস থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে মোট রেভিনিউ-এর ২৭ শতাংশ এসেছিল স্লিপার ক্লাস থেকে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কমে হয়েছে ১৯.৫ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষে স্লিপার ক্লাসে যাত্রী সংখ্যা হয়েছে ৩৮ কোটি, যেখানে অতিমারির আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৭ কোটি। অর্থাৎ, যাত্রী সংখ্যা খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
অতিমারির পর এসি থ্রি-টিয়ারের ভাড়া বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে ভাড়া বেড়েছে ৭.৪ শতাংশ। তবে এসি টু-টিয়ার এবং এসি ফার্স্ট ক্লাসের তুলনায় এই শ্রেণির ভাড়া বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এই কারণেই এসি থ্রি-টিয়ারে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং রেলের রাজস্ব আয়েও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।