প্রসূনই প্রধান খুনি! ‘মা, দিদি, কাকিমাকে মেরেছে কাকা’ এমনটাই দাবি জানালো বাড়ির ছেলে

ট্যাংরাকাণ্ডে জীবিত রয়েছেন তিনজন—প্রসূন দে, প্রণয় দে ও কিশোর প্রতীপ দে। তবে বাড়িতে পড়েছিল দুই বধূ রোমি দে ও সুদেষ্ণা দে এবং এক কিশোরীর দেহ। ঘটনার সূত্রপাত অভিষিক্তা মোড়ের কাছে, যেখানে মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মারে প্রণয়ের গাড়ি। সেই গাড়িতে ছিলেন প্রণয়, প্রসূন ও প্রতীপ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্টে এক পুলিশ আধিকারিকের বরাতে দাবি করা হয়েছে, প্রসূন দে তাঁর মা, কাকিমা এবং দিদিকে খুন করেছেন। এই বিস্ফোরক দাবি এসেছে কিশোর প্রতীপের কাছ থেকে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসূনই এই ঘটনার মূল কাণ্ডারি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রসূন ও প্রণয়ের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হলেই জেরা শুরু করবে পুলিশ। ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে একাধিক ‘মিসিং লিঙ্ক’ রয়েছে। এই রহস্যের জট খুলতে দুই ভাইয়ের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

এদিকে, প্রণয় ও প্রসূনের আত্মীয়দের দাবি, দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তারা একসঙ্গে ব্যবসা চালাতেন, বিদেশে বেড়াতে যেতেন, এমনকী চলাফেরাও একসঙ্গে করতেন। তবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—যদি দুজনে মিলেই সব সিদ্ধান্ত নিতেন, তবে খুনের ক্ষেত্রে কেন শুধু প্রসূনের ভূমিকা? প্রণয়ের কী অংশ ছিল না?

পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত যে তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে প্রসূনই তিনটি খুনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে প্রণয়ও এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।” রিপোর্টে আরও উল্লেখ, কিশোরী প্রতীপ জানত বাবা ও কাকার পরিকল্পনার কথা। সে পায়েস খেতে অস্বীকার করেছিল, কিন্তু তাকে মারধর করে জোর করে খাওয়ানো হয়। তার নাকের নীচে, ঠোঁটে ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন এই দাবির সমর্থন করে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে নিশ্চিত হয়েছে, তিনজনকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কেন এই খুন? শুধুই কি আর্থিক অনটনের জন্য? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ? কেন বাড়ির তিন মহিলাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এমন চক্রান্ত করা হল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অধরা।

পুলিশের তদন্তে এখন মূল ফোকাস প্রসূন ও প্রণয়ের বক্তব্য। তাদের জেরার মাধ্যমেই এই রহস্যের জট খোলার আশা করছে পুলিশ। এদিকে, ট্যাংরাকাণ্ডে প্রতিদিনই নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা গোটা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলছে।