“বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির থেকে বাংলার পরিস্থিতি ভাল”- অশোককে জবাব দিলেন চন্দ্রিমা

রাজ্য বাজেট বিতর্কে তাজপুর বন্দর থেকে দেউচা পাঁচামি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন অশোক লাহিড়ী। তবে বিজেপি বিধায়ক এবং অর্থনীতিবিদ লাহিড়ী যখন বিধানসভায় অনুপস্থিত, তখনই জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
২.৯৬ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পাশের পর তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার অভাবের মধ্যেও রাজ্য সরকার সামাজিক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরেন চন্দ্রিমা।
বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী রাজ্যের ঋণ নেওয়ার হার এবং অনুদান প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, “ঋণ সবাই নেয়, আমরা আইন মেনেই ঋণ নিই।” বাজেট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের মোট ঋণ ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে। তবে মহারাষ্ট্র (৮.১২ লক্ষ কোটি), উত্তরপ্রদেশ (৮.৫৭ লক্ষ কোটি) এবং তেলেঙ্গানা (৯.৭৫ লক্ষ কোটি) এর চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অর্থ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,
১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে ৬৯১৯ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র
গ্রামীণ আবাস যোজনায় ৮১৪০ কোটি টাকা রাজ্যকে দেওয়া হয়নি
জল জীবন মিশনে ২৫২৪ কোটি টাকা আটকে রয়েছে
এছাড়াও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, আয়ুষ এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রকল্পে কেন্দ্র অর্থ ছাড় করেনি বলে অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
অশোক লাহিড়ীর অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে চন্দ্রিমা বলেন, “বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্তর শুনতে কেউ নেই, এতে দুঃখ হয়। ভেবেছিলাম ডক্টর লাহিড়ী থাকবেন, ওঁর থেকে জানব, শিখব। কিন্তু উনি নিজেই অনুপস্থিত।”
বাজেট বিতর্কে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকার যেখানে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছে, বিজেপি সেখানে রাজ্যের ঋণ পরিস্থিতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।