“আপনারা কি নিজেদের স্যালাইন ব্যবহার করতে পারেন না?”, রাজ্যের কাছে বড় প্রশ্ন হাইকোর্টের

কলকাতা হাইকোর্টে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনে কোনও সমস্যা নেই, এমনটাই দাবি করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার, প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল, যেখানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ল্যাব রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, স্যালাইনে কোনও ধরনের সমস্যা বা ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি।

প্রধান বিচারপতি, মামলার শুনানির সময় রাজ্যের কাছে স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার ল্যাব রিপোর্ট তলব করেছিলেন। এদিন রাজ্য সরকারের আইনজীবী এজি কিশোর দত্ত রিপোর্ট পেশ করে বলেন, “প্রসূতি মৃত্যু ঘটার পর স্যালাইনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় স্যালাইনে কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি।” রাজ্য আরও জানায়, মৃত প্রসূতির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে প্রশ্ন করেন, “এই ঘটনা কীভাবে ঘটল?” সেইসময়, স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থা জানায়, “রাজ্য স্যালাইন কেন্দ্রীয় ল্যাবে পাঠানোর পর ক্লিনচিট এসেছে, এবং এরপর রাজ্যের হাতে কিছু গাইডলাইন অনুসরণ করার দায় থাকে।”

এজি কিশোর দত্ত এ বিষয়ে বলেন, “রাজ্যও রিপোর্টে একই কথা উল্লেখ করেছে, স্যালাইনে কোনও সমস্যা ছিল না।” এরপর প্রধান বিচারপতি রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি নিজেদের স্যালাইন ব্যবহার করতে পারেন না? এটি এমন একটি শিল্প যা শুরু করতে কত খরচ হতে পারে?” এজি এই বিষয়ে জানিয়ে বলেন, “এ বিষয় জানার পর আমরা বিস্তারিত বলতে পারব।”

মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য জানায় যে, ৮-৯ জানুয়ারি রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই রাতে কোনও সিনিয়র ফ্যাকাল্টি বা এমও উপস্থিত ছিলেন না। পাঁচজন প্রসূতির সি-সেকশনে নজরদারি সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত করছে।

এখন পর্যন্ত, রাজ্য সরকার স্যালাইনে কোনও সমস্যা না পাওয়ার কথা জানালেও, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।