“ভারতে থেকে শেখ হাসিনা রাজনীতি করলে…?”-বাংলাদেশ থেকে ফাঁকা আওয়াজ নাহিদের

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণ সম্প্রচারের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘সংবাদপত্রে জুলাই অভ্যুত্থান’ শীর্ষক বইয়ের উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার পর শেখ হাসিনার ভাষণ সম্প্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে উন্মত্ত জনতা বুলডোজার নিয়ে হামলা চালায়, পরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটি সেই বাড়ি, যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।
এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, “ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ভারত যদি বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয়, তাহলে এর দায়ভার ভারতকেই নিতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারতীয় সরকারের দায়িত্ব, তবে ভারতের যদি তিনি রাজনীতি করতে চেষ্টা করেন, তাহলে তার ফলাফল তারা ভোগ করবে।”
হাসিনা ভাষণে বলেন, “ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা লুটপাট হয়েছিল। তবে আজও এই বাড়িতে আগুন ধরানো হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে। কেন? এই বাড়িটির কী অপরাধ?” তিনি আবেগপূর্ণ হয়ে বলেন, “আমার মা নিজে হাতে এই বাড়ির ইট গেঁথেছিলেন। কত রাষ্ট্রপ্রধান এই বাড়িতে এসেছেন। আজ কেন এই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে?”
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর এবং তাঁর বোনের হত্যার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যে আন্দোলন চলছে, তা আসলে আমাকে হত্যার চেষ্টা। কিন্তু আল্লাহ যদি আমাকে এই হামলার পরেও বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে আমি আরও কিছু করতে পারব।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাগুলি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় নাহিদ ইসলামের ভারতকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।