BSF-কে জমি দিল রাজ্য সরকার, নদিয়ার সীমান্তে তৈরী হবে বড় চেকপোস্ট

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত এলাকাগুলোর কারণে বেআইনি অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যা গত কিছুদিনে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশে ভারতবিদ্বেষী মনোভাবের বাড়বাড়ন্ত এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বেশ কিছু এলাকা হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অবারিত পথ। এসব সমস্যাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জমি না দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অবশেষে রাজ্য সরকার এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত: বিএসএফকে জমি দেওয়া হবে
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৮টি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করেনি এবং ১৭টি সীমান্ত ফাঁড়ি তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া আটকে গেছে। এই কারণে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে, এবং সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ বেড়েছে।
রাজ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত
এদিকে, অনুপ্রবেশ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের শুরুতে রাজ্য সরকার কিছু সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের চেক পোস্ট তৈরি করার জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদিয়ার করিমপুরে বিএসএফের চেক পোস্টের জন্য ০.৯ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই, অনুপ্রবেশ বাড়ছে
একটি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে ৫৯৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, যা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। এই অঞ্চলে বেআইনি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কাঁটাতারের বেড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের উদ্বেগ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পেট্রাপোল বর্ডারে এক সরকারি অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সীমান্ত সংক্রান্ত অসহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাছাড়া, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিএসএফকে জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সবসময় সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন ছিল এবং বিএসএফের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আশ্বাস: সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
এখন রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে সীমান্তের অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।