“হেলে পড়া বাড়ি মানেই বিপজ্জনক নয়”- মত মেয়র ফিরহাদ হাকিমের

১৪ই জানুয়ারি বাঘাযতীনে হেলে পড়া বাড়ি সোজা করতে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ার ঘটনার পর, কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা সামনে আসছে। সম্প্রতি ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডে পাশাপাশি দুটি বহুতল, একটি নির্মিত এবং অন্যটি নির্মীয়মাণ, একে অপরের দিকে হেলে পড়েছে। এর পর বেলেঘাটা মেন রোডেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, যেখানে ৯ বছরের পুরোনো একটি বাড়ি ৫ বছরের পুরোনো একটি বাড়ির উপর হেলে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “হেলে পড়া বাড়ি মানেই বিপজ্জনক নয়।” তিনি বলেন, “বাড়ি হেলে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। কলকাতায় এমন অনেক হেলে পড়া বাড়ি আছে।” তবে, কেন এত বাড়ি হেলে পড়ছে, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ট্যাংরার ঘটনা:
ট্যাংরার হেলে পড়া ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাসকারী ১১টি পরিবারকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরসভা দুটি বাড়ির উপরই বিপজ্জনক নোটিশ লাগিয়েছে এবং আবাসিকদের তিন দিনের মধ্যে বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা বাড়িগুলির ‘স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি’ পরীক্ষা করছেন এবং তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেয়র জানিয়েছেন, বাড়ি দুটির জমির মালিকরা এখনও পর্যন্ত পুরসভাকে কোনও অনুমোদিত প্ল্যান দেখাতে পারেননি।
বিরোধীদের প্রশ্ন:
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনও অনুমোদিত প্ল্যান না থাকে, তাহলে কিভাবে একই এলাকায় পাশাপাশি দুটি পাঁচ-ছ’তলা বাড়ি তৈরি হল? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর পুরসভার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
পুরসভার পদক্ষেপ:
পুরসভা কলকাতার বিভিন্ন বহুতলের মালিকদের তাদের আবাসনের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি রিপোর্ট জমা দিতে অনুরোধ করেছে। মেয়র এটিকে কোনও “নিয়ম” নয়, বরং “আবেদন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গার্ডেনরিচের পরিস্থিতি:
কলকাতা পুর এলাকার ১৫ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান রঞ্জিত শীল অভিযোগ করেছেন, গার্ডেনরিচে বেআইনি নির্মাণের পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি। সেখানে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মারধরও করা হচ্ছে। মেয়র জানান, গার্ডেনরিচে অনেক পুরনো বাড়িও রয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করা সম্ভব নয়। তবে গত এক বছরে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা অনেক বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করেছেন।
রাজনৈতিক তরজা:
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, “উন্নয়ন হেলে পড়েছে, তাই কলকাতায় বেআইনি নির্মাণেরও রেগুলারাইজেশন হচ্ছে।” মেয়র ফিরহাদ হাকিম এর উত্তরে বলেন, “রেগুলারাইজেশনের একটা সীমা আছে। সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ কখনও রেগুলারাইজ করা হয় না।”
এই ঘটনাগুলি কলকাতার নির্মাণ কাঠামো এবং পুরসভার নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।