Google: এআই ‘জেমিনি’ নিয়ে বিপাকে গুগল, উঠলো সুন্দর পিচাইকে সরানোর দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে গুগলের একের পর এক ব্যর্থতা সামনে আসছে। মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে তৈরি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠতে পারেনি গুগলের ‘বার্ড’ ও ‘জেমিনি’। বরং ভুল ছবি তৈরি করায় ‘জেমিনি চ্যাটবট’ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে গুগল। এ কারণে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

কারিগরি ত্রুটির কারণে বাধ্য হয়ে জেমিনি চ্যাটবটে ছবি তৈরির সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকেই গুগল এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের নেতৃত্ব ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে জেমিনি প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উদ্দেশে সুন্দর পিচাই বলেন, ‘যে সব ভুলভাল লেখা এবং ছবি জেমিনি অ্যাপ জেনারেট করছে, সেই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই। এই অ্যাপের কিছু কিছু পক্ষপাতমূলক জবাব আমাদের ব্যবহারকারীদের মনে আঘাত দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা ভুল করেছি।’

সুন্দর পিচাই জানান, ‘গুগলের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে জেমিনির ভুল ত্রুটি শুধরানোর জন্য। আপাতত জেমিনিতে ছবি জেনারেট করার ফিচার বন্ধ রাখা হয়েছে।’ এদিকে পিচাইয়ের বক্তব্য, ‘কোনো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম নিখুঁত হতে পারে না। তবে আমাদের মান অনেক উঁচুতে। এবং আমরা সেটা বজায় রেখেই কাজ করবো।’

এর আগে জেমিনির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কও। তার দাবি, গুগলের এআই প্ল্যাটফর্মে বর্ণবিদ্বেষ এবং লিঙ্গবৈষম্য আছে। এরপরই এই সব ভুলত্রুটি ঠিক করা হচ্ছে বলে জানান গুগলের উচ্চপদস্থ কর্তারা। তবে তাতেও জেমিনি নিয়ে বিতর্ক থামার নাম নেই। এই আবহে প্রবল চাপে পড়েছে অ্যালফাবেট প্রধান সুন্দর পিচাই নিজে।

জেমিনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে মোদী, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংরা ফ্যাসিস্ট কি-না। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে কোনো জবাব দেয়নি এআই। এদিকে জিনপিং এবং ইমরানের ক্ষেত্রে জেমিনির জবাব ছিল, এই দাবির উভয় পক্ষেই মতামত রয়েছে। তবে মোদীর ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তর ছিল, মোদী এমন নীতি কার্যকর করেন, যেগুলোকে ফ্যাসিস্টের তকমা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। অবকাঠামো ও জনবল বিবেচনায় অনেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে গুগল। তাই এই প্রতিষ্ঠানে ব্যর্থতার দায়ভারও সুন্দর পিচাইকেই নিতে হবে। এই অবস্থায় ব্যবসা পুনরুদ্ধারে গুগলের পরিচালনা পর্ষদে রদবদলের কথাও হচ্ছে।