চোখ পরীক্ষা করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু, দোষী সাব্যস্ত হলেন ডাক্তার

উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার রেহেনা বিবি নামে এক মহিলা বারাসতের একটি বেসরকারি চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘ফান্ডাস ফ্লুরেসিন অ্যাঞ্জিয়োগ্রাফি’ (এফএফএ) পরীক্ষা করাতে যান।পরীক্ষার সময় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে চোখের রক্তবাহিকায় ডাই ঢোকানোর পর তিনি মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হন (অ্যানাফাইলেক্টিক শক)।
অভিযোগ ওঠে যে, চিকিৎসকরা রোগীকে জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে গাফিলতি করেন।

রোগীর পরিবার ‘পিপলস ফর বেটার ট্রিটমেন্ট’ (পিবিটি)-এর সহায়তায় দুই চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে অভিযোগ জানায়।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কাউন্সিল দুই চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে।

মেডিক্যাল কাউন্সিল দুই চিকিৎসককে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে কি না তা ব্যাখ্যা করার জন্য তলব করেছে।কাউন্সিল একটি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
হতভাগ্য পরিবার জাতীয় ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে দেড় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্ময় দত্তের মতে, এফএফএ পরীক্ষায় অ্যানাফাইলেক্টিক শকের ঘটনা বিরল, তবে এমন পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
ইমার্জেন্সি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তমরীশ কোলে বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এই শক বুঝতে পারবেন এবং এপিনেফ্রিন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
চিকিৎসায় গাফিলতিতে ক্ষতিপূরণের জন্য ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে মামলা করা যেতে পারে।রোগীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত।