মহিলাদের জন্য সুখবর! ‘লাডলি বেহেন’ প্রকল্পে টাকা বাড়ল, কীভাবে আবেদন করবেন? রইল সম্পূর্ণ গাইড

মধ্যপ্রদেশ সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লাডলি বেহেন যোজনা’ (Ladli Behna Yojana) বর্তমানে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার কাছে এক বড় আর্থিক ভরসার নাম। মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। বর্তমানে ১.২৫ কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। তবে কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা নিয়ে অনেকেরই মনে সংশয় থাকে। আজকের এই প্রতিবেদনে রইল প্রকল্পের যাবতীয় খুঁটিনাটি।

প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা:
২০২৩ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে প্রথমদিকে মাসিক ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১,২৫০ টাকা করা হয়। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

কারা পাবেন এই সুবিধা? (যোগ্যতার মাপকাঠি):
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য বেশ কিছু শর্তাবলী রয়েছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী:

আবেদনকারীকে অবশ্যই মধ্যপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

মহিলার বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার নিচে হতে হবে।

পরিবারের কারও নামে চার চাকার গাড়ি থাকা চলবে না।

পরিবারের মোট জমির পরিমাণ ৫ একরের কম হতে হবে।

বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় স্বামীর আয়ও হিসাবে ধরা হবে।

কাদের আবেদন গ্রাহ্য হবে না?
সরকারি চাকুরিজীবীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পরিবারের কেউ সরকারি স্থায়ী, অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কর্মরত থাকলে সেই পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের ক্ষেত্রেও বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

আবেদন করবেন কীভাবে?
প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া সরকারি পোর্টাল cmladlibahna.mp.gov.in-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা সম্ভব।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
আবেদনের সময় নিম্নোক্ত নথিগুলি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক:

[আধার কার্ড নম্বর (রেড্যাক্টেড)]

রেশন কার্ড

ব্যাঙ্ক পাসবুক

জমির নথিপত্র

আয়ের স্ব-ঘোষণাপত্র

সময়সীমা:
আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগে। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরবর্তী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়।