ইরান যুদ্ধ শেষের পথে? পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে বড়সড় সমঝোতার জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত কার্যত মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, দুই দেশ শান্তি চুক্তির একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী ফের খুলে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির মূল শর্ত ও জটিলতা: মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল মাত্রা। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, প্রাথমিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি না মিললে আলোচনা বাতিল করে সামরিক অভিযানের পথে হাঁটতে পারে তারা।

বিশ্বরাজনীতিতে টানাপোড়েন: ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে চুক্তির বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে। তেহরানকে চুক্তি মানতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ ধীরে ধীরে ছাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে এই সমঝোতার পথে এখনো বড় বাধা রয়েছে। একদিকে আমেরিকার দাবি, ইরান ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ছাড়তে রাজি হয়েছে; অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই সম্প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে দেবে না।

জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে ভারতসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, যা বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইউরেনিয়াম ইস্যুর এই জটিল সমাধান কীভাবে সম্পন্ন হয়।