ড় ধাক্কা খাদ্যরসিকদের! কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন ‘নিজামস’ কি চিরতরে বন্ধ করছে বিফ আইটেম? আসল সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন!

কলকাতার রসনাতৃপ্তির ইতিহাসে এক বড়সড় মোড়। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরই পশু হত্যা রুখতে এবং পশু কল্যাণে কড়া মনোভাব নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। আর এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির কোপ এবার সরাসরি পড়ল শহরের শতবর্ষ প্রাচীন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় খাদ্য প্রতিষ্ঠান ‘নিজাম’-এর ওপর। ধর্মতলা চত্বরের নিউ মার্কেট এলাকার এই খ্যাতনামা রেস্তরাঁটি তাদের মেনু থেকে গো-মাংস বা বিফের তৈরি সমস্ত পদ আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে।
কলকাতার ভোজনরসিকদের কাছে নিজাম এক আবেগের নাম। বিশেষ করে এখানকার ঐতিহ্যবাহী বিফ রোল এবং কাবাবের স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। কিন্তু আচমকাই রেস্তরাঁর মেনু কার্ড থেকে এই পদগুলি উধাও হয়ে যাওয়ায় খাদ্যপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি শুধু নিজামেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে শহরের ছোট, মাঝারি ও বড় স্তরের সমস্ত রেস্তরাঁ এবং মাংস ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের দোলাচল তৈরি হয়েছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং কোনো রকম ঝুঁকি না নিতে অনেকেই নিজ উদ্যোগেই গো-মাংসের তৈরি বিভিন্ন পদের বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে সার্বিকভাবে তিলোত্তমার রেস্তরাঁ বাজারে এই ধরনের খাবারের জোগান এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে মাংসের জোগানে বড়সড় টান পড়েছে। একদিকে প্রশাসনিক নজরদারি এবং অন্যদিকে সরবরাহের ঘাটতির কারণে মাংসের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খরচ পোষাতে না পেরে এবং ক্রেতাদের চাহিদার অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই অনেকে পিছু হটছেন। আগামী দিনে এই ধরনের পদের বিক্রি শহর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতির ওপর এই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে রসনাতৃপ্তির চেনা মানচিত্রকে কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।