Assembly Session: “ধৈর্যের একটা সীমা থাকে!” ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তাপস রায়, উত্তাল বিধানসভা

বিধানসভার ভেতরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবার একবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন প্রবীণ বিধায়ক তাপস রায়। বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় আচমকাই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল তাঁকে। মেজাজ হারিয়ে তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে এল অত্যন্ত কড়া শব্দ। প্রবীণ এই রাজনীতিকের মুখে এমন মন্তব্য শুনে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ঠিক কী ঘটেছিল অধিবেশনে?
সূত্রের খবর, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন যখন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই কোনো একটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাপস রায়। উপস্থিত বিধায়কদের একাংশের আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সরাসরি বলেন, “নির্লজ্জ-বেহায়া না হলে এমনটা করা যায় না!” তাঁর এই আকস্মিক মন্তব্যে মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে পড়ে গোটা কক্ষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং দলীয় সমীকরণের টানাপোড়েন নিয়ে হয়তো ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমছিল এই বর্ষীয়ান নেতার। সেই চাপা অসন্তোষই এদিন বিধানসভার মেঝেতে আচমকা আছড়ে পড়েছে।
বক্তব্য রাখার সময় তাঁর শরীরী ভাষা এবং গলার স্বরই বলে দিচ্ছিল, তিনি কতটা বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। নিজের রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত সংযত ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তাপস রায়ের এই রূপ সাম্প্রতিক অতীতে কেউ দেখেনি।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী শিবির শাসকদলকে নিশানা করতে ছাড়েনি। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের অন্দরেও তাপস রায়ের এই মন্তব্য নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে। তিনি ঠিক কার বা কাদের উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ শানালেন, তা নিয়ে বিধানসভার অলিন্দে এখন জোর চর্চা চলছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতার মুখে এমন ‘বেহায়া’ শব্দ ব্যবহারের নেপথ্যে গভীর কোনো রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে কি না, সেটাই এখন দেখার।