“প্রথম দিন থেকেই সব ঘেঁটাব না!” তৃণমূলের নতুন রণকৌশল ফাঁস করলেন কুণাল, পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে মেগা চাল

টানা দেড় দশক পর বাংলার মসনদ খোয়াতে হয়েছে। ১৫ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এবার বসতে হচ্ছে বিরোধী আসনে। এই চরম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঠিক কেমন হবে তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল? তারা কি প্রথম দিন থেকেই অল-আউট আক্রমণে যাবে, নাকি কিছুটা সময় নেবে? শুক্রবার এক হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে দলের সেই অবস্থান ও নীতি স্পষ্ট করে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এখনই নতুন সরকারের সব সিদ্ধান্তের বিরোধিতার পথে হাঁটবে না জোড়াফুল শিবির।

তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বুঝিয়ে দেন, বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে চান না। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের কাজের ওপর আপাতত কড়া নজর রাখবে তৃণমূল।

প্রথম দিন থেকেই বিরোধ নয়, গঠনমূলক পর্যবেক্ষণের পথে তৃণমূল

সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বা বিজেপি সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় বসেছে। তাই সব সিদ্ধান্তের অন্ধ বিরোধিতা করতে যাবে না তৃণমূল। সবকিছুর বিরোধিতা করলে প্রশাসনিক কাজকর্ম ঠিকমতো চালানো সম্ভব হয় না। তাই কোনওভাবেই প্রথম থেকে আমরা বিরোধিতায় যাচ্ছি না।”

তবে নতুন সরকারকে যে তাঁরা ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিচ্ছেন না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন কুণাল। তিনি জানান, সরকার আগামী দিনে যা যা সিদ্ধান্ত নেবে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করবে তৃণমূল। যদি কোনও সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী হয়, তবেই তার ভুলত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক বিরোধিতা করা হবে।

“ডবল ইঞ্জিন সরকার এবার ট্যাক্স তুলে দিক!” পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে তোপ

এদিন পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান কুণাল ঘোষ। লোকসভা ও বিধানসভা ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম বাড়ায় কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। কুণাল বলেন, “ভোটের প্রচারের সময় আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বলছিলেন, ভোট মিটলেই পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়াবে কেন্দ্র। আজ সেটাই সত্যি প্রমাণিত হলো। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা যখন এখানে ভোট চাইতে এসেছিলেন, তখন এই নিয়ে একটা কথাও বললেন না কেন?”

এখানেই থামেননি বেলেঘাটার বিধায়ক। অতীতে তৃণমূল সরকারের আমল টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূল যখন ক্ষমতায় ছিল, রাজ্যের বিজেপি নেতারা বারবার বলতেন রাজ্য যেন ট্যাক্স কমায়। তখন ইচ্ছে থাকলেও রাজ্য তা পারেনি, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার কোটি কোটি টাকার বকেয়া আটকে রেখেছিল। কিন্তু এখন তো রাজ্যে ও কেন্দ্রে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। তাহলে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার এবার নিজেদের ট্যাক্স পুরোপুরি তুলে দিক!”

৩ আইপিএস সাসপেন্ড ও বুলডোজার নীতি নিয়ে শুভেন্দুকে পাল্টা

আরজি কর কাণ্ডে বর্তমান বিজেপি সরকার যে ৩ জন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন কুণাল। শুভেন্দুর এই পদক্ষেপের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনও তদন্তেই আপত্তি করছি না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সিবিআই কি এতদিন এই সব বিষয়ে তদন্ত করেনি? তাহলে কি বর্তমান রাজ্য সরকার সিবিআইয়ের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করছে? সিবিআই কি এই দিকটা খতিয়ে দেখেনি?”

পাশাপাশি, তিলজলার বেআইনি বহুতল ভাঙতে উত্তরপ্রদেশের কায়দায় বুলডোজার ব্যবহারের যে হুঁশিয়ারি বা পদক্ষেপ নতুন সরকার দিচ্ছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেন কুণাল ঘোষ। নব্য বিজেপি সরকারকে খোঁচা দিয়ে তাঁর সাফ কথা, “বুলডোজার চালানো কখনও সুশাসনের বা ক্ষমতার প্রদর্শন হতে পারে না।”

DailyHunt-এর বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি এবং প্রথম দিন থেকেই আক্রমণাত্মক না হয়ে পর্যবেক্ষণের কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, শুভেন্দু সরকারের আগামী সিদ্ধান্তগুলির ক্ষেত্রে কুণাল ঘোষের এই ‘গঠনমূলক বিরোধিতা’র ফর্মুলা কতটা বজায় থাকে।