“যাঁরা যাওয়ার চলে যান, আটকাব না!” অভিষেকের ‘কর্পোরেট নীতি’র বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে বিস্ফোরক মমতা

দলের অন্দরে যখন একের পর এক উইকেট পড়ার জোগাড়, যখন খোদ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট নীতি’ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা—ঠিক তখনই আসরে নামলেন সুপ্রিমো। দলের রাশ নিজের হাতে শক্ত করে ধরে বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ও চূড়ান্ত বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তিনি কাউকে তোষামোদ করতে রাজি নন।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে যেভাবে দলের অন্দরের কলহ হাটে হাঁড়ি ভাঙার মতো প্রকাশ্যে চলে আসছিল, তা নিয়ে কালীঘাটের বৈঠকে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “কারও কিছু বলার থাকলে দলকে জানান, বাইরে বলবেন না।”
‘যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁরাই নিরেট সোনা’—শুদ্ধিকরণের ডাক
বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, ব্ল্যাকমেল করে দলে থাকা যাবে না। যাঁরা অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন বা দল ছাড়তে চান, তাঁদের পথ পরিষ্কার। নেত্রীর কথায়, “যাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার তাঁরা চলে যান, আমি কাউকে আটকাব না। কিন্তু যাঁরা পরে থাকবেন, আমার ভাষায় তাঁরা নিরেট সোনা।” নতুন করে, নতুন শক্তিতে দল গড়ার সংকল্প নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ এখনও একবিন্দু শিথিল হয়নি।
৭ দিনের ডেডলাইন ও বুথ স্তরে ঝাঁঝ বাড়ানোর নির্দেশ
কেবল মুখের কথায় নয়, সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবার কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি এলাকাভিত্তিক কাজের গতি ও খতিয়ানের রিপোর্ট সরাসরি তলব করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিস্তেজ হয়ে পড়া কর্মীদের চাঙ্গা করতে ব্লক, টাউন ও অঞ্চল স্তরে ছোট ছোট মিছিল এবং মিটিং অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙা পার্টি অফিস সারাই ও চন্দ্রিমা-র ওপর আইনি ভরসা
দলীয় কর্মীদের মনোবল ফেরাতে এক অদ্ভুত ও আবেগঘন দাওয়াই দিয়েছেন মমতা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিস নতুন করে রঙ করতে হবে এবং ভাঙা অংশ সারিয়ে তুলতে হবে। কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি আবেগভরা সুরে বলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও তুলি হাতে পার্টি অফিস রঙ করতে যাবেন।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের যেখানেই কর্মীরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের তালিকা সরাসরি কালীঘাটে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি, কর্মীদের আইনি হেনস্থা রুখতে ও যে কোনও আইনি জটিলতা সামলাতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের যে কোনও সমস্যায় চন্দ্রিমার সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাওয়ারি নেতাদের পারফরম্যান্সের এক্স-রে করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়েও জাহাজের ক্যাপ্টেন তিনিই।