৩ আইপিএস সাসপেন্ড তো ট্রেলার, আসল ছবি এখনও বাকি? আরজি কর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক চাল!

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পর, এবার আরও বড় রাজনৈতিক বোম ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে হাই-প্রোফাইল বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও এবার সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা বদলের পর আরজি কর কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে এক বিরাট সুনামি এনে দিয়েছে।

শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে বিনীত গোয়েল, অভিষেক গুপ্ত এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, তড়িঘড়ি দেহ সৎকার এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকার প্যাকেট দিয়ে মুখ বন্ধ করার যে জঘন্য অপচেষ্টা হয়েছিল, তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা খুঁজে বের করা হবে।

তদন্তের রাডারে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সেদিন আরজি করের মতো একটি স্পর্শকাতর ক্রাইম সিনের নিরাপত্তা কেন সুনিশ্চিত করা হয়নি, কার নির্দেশে তড়িঘড়ি আরজি করের সেমিনার হলের দেওয়াল ভাঙা হয়েছিল এবং কার অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ পুরো ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। স্বরাষ্ট্র দফতরের তৎকালীন মন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কোনওভাবেই এই তদন্তের বাইরে থাকতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।”

ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুনরুদ্ধারের নির্দেশ

নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেগা মামলার তদন্তকে যৌক্তিক পরিণতিতে নিয়ে যেতে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ নতুন সরকার। সাসপেন্ড হওয়া তিন আইপিএস আধিকারিকের ফোন কল রেকর্ড (CDR) এবং ঘটনার দিন ও তার পরবর্তী সময়ে হওয়া সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হচ্ছে। এই পুলিশ কর্তারা সেদিন নবান্নের কোন শীর্ষ মহলের নির্দেশে কাজ করছিলেন, তা জানতে তাঁদের ডিলিট হয়ে যাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে বাংলায় কোনও সরকারের জমানায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এভাবে তদন্তের জল গড়ানোর নজির মেলা ভার। শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া দাওয়াইয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই পূর্বতন শাসক দল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। বিনীত গোয়েলদের পর তদন্তের আঁচ এবার সরাসরি কালীঘাটের দোরগোড়ায় পৌঁছায় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Editor001
  • Editor001