ফেসবুকে ভয়াবহ বিভ্রাট, হ্যাকিংয়ের আতঙ্কে দিশেহারা ব্যবহারকারীরা, জানুন আসল কারণ

বিশ্বজুড়ে হঠাৎ বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাটের কবলে পড়ল মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার। গত শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি ব্যবহারকারী তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পেরে চরম বিভ্রান্তি ও হ্যাকিংয়ের আতঙ্কে পড়েন।
কী ঘটেছিল? শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের পর থেকে ডাউনডিটেক্টরে হাজার হাজার ব্যবহারকারী অভিযোগ জানান যে, ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অ্যাপ এবং ব্রাউজার সংস্করণ—কোনোটিতেই প্রবেশ করা যাচ্ছে না। বারবার চেষ্টা করেও স্ক্রিনে ‘সেশন এক্সপায়ার্ড’ বা ‘আনএক্সপেক্টেড এরর’ বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে নিউজফিড স্থবির হয়ে পড়ে এবং মেসেঞ্জারে বার্তা আদান-প্রদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিভ্রাটের এই ভয়াবহতা বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মেটার প্রতিক্রিয়া বিভ্রাটের প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মেটার যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তারা সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। পরে তিনি জানান, পরিষেবাগুলো ধীরে ধীরে ফিরছে। তবে মেটার পক্ষ থেকে কারিগরি বিভ্রাটের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আতঙ্কে ব্যবহারকারীরা এ সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো বিভ্রাট হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। অনেকের অভিযোগ, ফেসবুকের সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপেও মাঝেমধ্যে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মেটার অভ্যন্তরীণ সার্ভার কনফিগারেশন বা ব্যাক-এন্ড নেটওয়ার্কের বড় কোনো ত্রুটির কারণে এই বৈশ্বিক আউটেজ ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে পরিষেবা সচল থাকলেও, বারবার কেন এই বিপর্যয় ঘটছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।