ফ্রিজ থেকে হঠাৎ অদ্ভুত শব্দ আসছে? কম্প্রেসর নষ্ট হওয়ার আগেই জেনে নিন এই বড় কারণটি!

ফ্রিজ চালু থাকা অবস্থায় হঠাৎ কটকট, খটখট কিংবা ঘড়ঘড় আওয়াজ শুনতে পেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ মানুষেরই মনে ভয়ের সৃষ্টি হয় যে বুঝি এবার বহুমূল্যবান কম্প্রেসরটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেল। তবে সব আওয়াজ যে সবসময় যন্ত্রের বড় কোনো ত্রুটির লক্ষণ, এমনটা একেবারেই নয়। ফ্রিজের স্বাভাবিক অপারেশন ও মেকানিক্যাল কাজের কারণেও মাঝেমধ্যে এমন শব্দ হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আলগা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত কম্পন কিংবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমন যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। ফ্রিজের এই শব্দের মূল রহস্য বুঝতে হলে সবার আগে খেয়াল করতে হবে যে আওয়াজটি ঠিক কখন হচ্ছে এবং এর তীব্রতা কতটা।
ফ্রিজে কটকট বা অদ্ভুত শব্দ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রার পরিবর্তন। ফ্রিজ চালু থাকার পর যখন ভেতরের তাপমাত্রা নামতে শুরু করে, তখন ভেতরের প্লাস্টিক অংশ ও কেবিনের উপাদান সামান্য প্রসারিত বা সংকুচিত হয়। তাপমাত্রার এই স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলেই মাঝেমধ্যে ছোটখাটো বা কটকট শব্দ শোনা যায়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং এর জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত, কন্ডেন্সর কয়েল বা পাইপে কম্পন। ফ্রিজের ঠিক পেছনে থাকা কন্ডেন্সর কয়েল বা পাইপের কোনো অংশ যদি আলগা হয়ে যায়, তবে কম্প্রেসর চালু হওয়ার সময়ে তীব্র কম্পন তৈরি হতে পারে। পাইপগুলো যদি ফ্রিজের বাইরের কাঠামোর সঙ্গে লেগে থাকে, তবে ঘর্ষণ ও কম্পনের ফলে বিরূপ শব্দ হতে পারে।
তৃতীয়ত, কম্প্রেসরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ফ্রিজ ঠান্ডা রাখার মূল চালিকাশক্তি হলো কম্প্রেসর। এটি চালু বা বন্ধ হওয়ার সময় সামান্য হালকা শব্দ হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি হঠাৎ খুব জোরালো শব্দ শুরু হয়, বারবার অস্বাভাবিক আওয়াজ হয় কিংবা ফ্রিজ পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হয়, তবে বুঝতে হবে কম্প্রেসর বা এর সংযোগে বড় কোনো সমস্যা রয়েছে। চতুর্থত, ফ্রিজটি অসমতল জায়গায় রাখা। ফ্রিজ যদি ঘরের সমতল মেঝেতে সঠিকভাবে না রাখা হয়, তবে কম্প্রেসর চালু হওয়ার সময় পুরো যন্ত্রে অতিরিক্ত কম্পন তৈরি হয়। এর ফলে ফ্রিজের বডি কাঁপতে থাকে এবং খটখট শব্দ হতে শুরু করে। তাই ফ্রিজের তলার নাট-বল্টু ও লেভেলিং ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা অতি জরুরি।
ফ্রিজের অতিরিক্ত শব্দ ও বিদ্যুৎ বিলের বিশাল ধাক্কা কমাতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা উচিত। ফ্রিজের পেছনের অংশে দেওয়াল থেকে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে গরম বাতাস অনায়াসে বের হতে পারে। সাধারণত বেশিরভাগ মডেলের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ফ্রিজের পেছনের কন্ডেন্সর কয়েলে ধুলাবালি জমলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তবে পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই মেইন সুইচ অফ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কয়েল নোংরা থাকলে তাপ বের হতে সমস্যা হয়, ফলে ফ্রিজকে ঠান্ডা রাখতে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ হু হু করে বেড়ে যায়। ফ্রিজের শব্দ যদি দিন দিন বাড়তেই থাকে, কোনো পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়, ফ্রিজ অতিরিক্ত গরম হয় কিংবা ভেতরের খাবার নষ্ট হতে শুরু করে, তবে নিজে নিজে মেরামতের ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উচিত।