মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ঝটকা! দাম আকাশছোঁয়া হতে চলেছে স্মার্টফোনের টেম্পার্ড গ্লাসের

স্মার্টফোনের ডিসপ্লে সুরক্ষিত রাখতে আমরা কমবেশি সকলেই স্ক্রিনগার্ড বা টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এবার সেই টেম্পার্ড গ্লাস কেনা বা বদলানোই বেশ খানিকটা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াতে চলেছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রোটেক্টর ও টেম্পার্ড গ্লাসের গুণমান এবং মানদণ্ড নিয়ে এক কঠোর ও নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র, যার ফলে আগামী দিনে ফোন সুরক্ষিত রাখার খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে পারে।

বিআইএস (BIS)-এর আওতায় আসছে স্ক্রিনগার্ড

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিন মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রোটেক্টরগুলিকে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)-এর বাধ্যতামূলক নিবন্ধন কাঠামোর আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত স্ক্রিন প্রোটেক্টরকে নির্দিষ্ট আইএস (IS 19348:2025) মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষা এবং নথিভুক্ত করাতে হবে।

বর্তমানে ফুটপাতের সাধারণ দোকান থেকে শুরু করে ঝাঁ চকচকে শপিং মল— সর্বত্রই ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার টেম্পার্ড গ্লাস পাওয়া যায়। তবে নয়া এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নমানের স্ক্রিন প্রোটেক্টরের পরিবর্তে বাজারে উচ্চমানের ও দীর্ঘস্থায়ী পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

দাম বাড়ার কারণ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন প্রোটেক্টরগুলিকে বিআইএস-এর আওতায় আনার অর্থ হলো প্রতিটি প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারককে বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের গুণমান যাচাই করাতে হবে। এই মান পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশনের জেরে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন বা আমদানির খরচ বাড়বে। আর স্বাভাবিক নিয়মেই সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা এসে পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে।

যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি দাম বৃদ্ধির কথা কিছু বলা হয়নি এবং পুরনো স্টক বা নির্দিষ্ট কোনো গ্লাস নিষিদ্ধও করা হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের এই নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে বাজারে যে স্ক্রিনগার্ডগুলি মিলবে, সেগুলিতে উন্নত অপটিক্যাল ক্লারিটি, অধিক মজবুত স্থায়িত্ব এবং ওলিওফোবিক কোটিং (যাতে সহজে দাগ না পড়ে) থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মানসম্মত এই পরিবর্তন ক্রেতাদের সুরক্ষা বাড়ালেও, সাধারণ মানুষের পকেটে যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *