মৃত আত্মীয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে আর হয়রানি নয়! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কড়া নিয়মে মাত্র ১৫ দিনেই মিলবে সমাধান

পরিবারের কোনো সদস্যের হঠাৎ প্রয়াণের পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD) কিংবা অন্যান্য আমানতের টাকা হাতে পাওয়া নিয়ে একটা দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) কঠোর ও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেই দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে।

টাকা তোলার সঠিক প্রক্রিয়া কী?

  • ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ: সবার প্রথমে মৃত গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। আজকাল অনেক ব্যাংক তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অনলাইন পোর্টালেই মৃত গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ক্লেম ফর্মের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে থাকে। তাই ব্রাঞ্চে যাওয়ার আগে অনলাইনে তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।

  • ফর্ম পূরণ: মৃত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের জন্য নির্ধারিত ক্লেম ফর্মটি সমস্ত সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। সেখানে দাবিদারের পরিচয় এবং অ্যাকাউন্টের বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

  • নথিপত্র জমা দেওয়া: সঠিকভাবে পূরণ করা ফর্মের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে প্রধানত মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট, নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনি কাগজ থাকা জরুরি।

মাত্র ১৫ দিনেই মিলবে সমাধান

RBI-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, দাবিদার কর্তৃক সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ আবেদন নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা রাখতে হবে ব্যাঙ্কগুলোকে। তবে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ‘নমিনি’।

যদি মৃত ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই নমিনির নাম সঠিকভাবে নথিভুক্ত থাকে, তবে ক্লেম সেটেলমেন্টের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নমিনির পরিচয় যাচাই করে নির্ধারিত নিয়ম মেনে খুব সহজেই মৃত ব্যক্তির আমানতের অর্থ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে। তাই সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট কিংবা ফিক্সড ডিপোজিট— সবক্ষেত্রেই নমিনির তথ্য সবসময় আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক নথিপত্র থাকলে এই কঠিন সময়ে অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা ও হয়রানি এড়ানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *