Whatsapp-এর নতুন ফিচারে তুলকালাম, ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্র সরকার

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় সরকার। মেটা-র লঞ্চ করা নতুন ‘ইউজার আইডি’ (Username) ফিচারটি এখন কেন্দ্রের কড়া নজরদারিতে। ক্রমবর্ধমান অনলাইন জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্রতারণার আশঙ্কায় সরকার এই ফিচারের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে মেটা কর্তৃপক্ষকে সরকারি নোটিশও পাঠানো হতে পারে বলে খবর।
কী এই নতুন ফিচার? এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে কোনো নতুন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে হতো। মেটার নতুন ফিচারে ব্যবহারকারীরা একটি ‘ইউনিক ইউজারনেম’ তৈরি করতে পারবেন। সংস্থার দাবি, এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি গোপন থাকবে এবং নিরাপত্তা বাড়বে। গত ২৯ জুন থেকে বিশ্বজুড়ে এই ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা হয়েছে। ভারতেও প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে এবং অনেকেই পছন্দের ইউজারনেম রিজার্ভ করছেন।
কেন্দ্রের উদ্বেগের কারণ কী? কেন্দ্র সরকারের মূল আশঙ্কা, এই ফিচারের আড়ালে অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখা সহজ হয়ে যাবে। হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়, তবে এতদিন পর্যন্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের ফলে পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যেত। কিন্তু ‘ইউজার আইডি’ ব্যবস্থা চালু হলে প্রতারকদের আসল পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য কঠিন হতে পারে। অপরাধীরা সহজেই এই ফিচারের সুবিধা নিয়ে ছদ্মবেশে প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ: কেন্দ্রের ডিজিটাল নিরাপত্তা টিম বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউজার আইডি ফিচারের গোপনীয়তা এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের সুরক্ষার পাশাপাশি এটি কীভাবে অপরাধের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইছে মেটা যেন এই ফিচারে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা (Security Layer) যুক্ত করে, যাতে প্রতারকদের সহজে শনাক্ত করা যায়।