“টানা ১ লাখ গোনা থেকে ৪৮ কোটির সাম্রাজ্য!”-‘মিস্টার বিস্ট’-এর ইউটিউবার হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য গল্প

বর্তমান যুগে বিনোদন মানেই হাতের মুঠোয় থাকা ইউটিউব। আর এই বিশ্বজোড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন এক মার্কিন তরুণ। তিনি আর কেউ নন, বিশ্বখ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘মিস্টার বিস্ট’। সব রেকর্ড ভেঙে তিনি এখন বিশ্বের এক নম্বর এবং সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইব করা ইউটিউব চ্যানেলের মালিক।

বর্তমানে মিস্টার বিস্ট ওরফে জিমি ডোনাল্ডসনের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা আকাশছোঁয়া—প্রায় ৪৮ কোটি ৪০ লাখের বেশি! আজ তার এই সাফল্যের চকমকানি দেখে বিশ্ববাসী তাজ্জব বনে গেলেও, এই সাম্রাজ্য কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ও দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।

১ লাখ পর্যন্ত গোনা থেকে শুরু!

২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউটিউবের দুনিয়ায় পা রাখেন জিমি ডোনাল্ডসন। শুরুর দিকে তার ভিডিওগুলো বর্তমানের মতো এত ঝকঝকে বা কোটি টাকার বাজেটের ছিল না; বরং সেগুলো ছিল বেশ অদ্ভুত ও দীর্ঘ। নিজের জেদ আর ধৈর্যকে পুঁজি করে তিনি ক্যামেরার সামনে টানা ১ লাখ পর্যন্ত গুনে ভিডিও তৈরি করেছিলেন। কখনো আবার দর্শকদের পুরো ডিকশনারি বা অভিধান পড়ে শুনিয়েছেন! মূলত তার এই খ্যাপাটে, বিচিত্র এবং চরম ধৈর্যশীল কাজগুলোই তাকে অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের থেকে আলাদা করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে দর্শকপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

বদলে গেছে বিনোদনের সংজ্ঞা

আজকের দিনে ‘মিস্টার বিস্ট’ মানেই কোটি কোটি টাকার চোখ ধাঁধানো সব আয়োজন। লাখ লাখ ডলারের উপহার (গিভঅ্যাওয়ে) এবং রুদ্ধশ্বাস সব চ্যালেঞ্জের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কখনো তিনি আস্ত একটি দ্বীপ উপহার দিয়ে বসেন তো কখনো হলিউডকেও হার মানানো সেট তৈরি করে গেম শোর আয়োজন করেন। তার প্রতিটি ভিডিওর জন্য কোটি কোটি ভক্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন যে, এবার মিস্টার বিস্ট নতুন কী চমক নিয়ে আসছেন।

নিজের অদম্য সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে তিনি কেবল সাবস্ক্রাইবারের তালিকাতেই শীর্ষে নন, আয়ের দিক থেকেও বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ইউটিউবার। ইউটিউব স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে আউটডোর শুটিং এবং সিনেমাটিক প্রোডাকশনের মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল বিনোদনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন। ঘরের কোণে বসেও যে বিশ্বজয় করা যায়, জিমি ডোনাল্ডসন আজ তার জীবন্ত উদাহরণ।