ফেসবুকে ছবি সুরক্ষায় ভাইরাল পোস্ট করছেন, জেনেনিন বিষয়টা গুজব নাকি সত্যি?

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিউজফিডে একটি নির্দিষ্ট পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকের অননুমোদিত ব্যবহার থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই বার্তাটি নিজেদের প্রোফাইলে পোস্ট করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পোস্টটি আসলে কতটা সত্যি?
কী লেখা আছে সেই পোস্টে?
ভাইরাল হওয়া এই পোস্টটিতে দাবি করা হচ্ছে:
“আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে আমি ফেসবুক বা মেটাকে আমার কোন ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছি না। আগামীকাল একটি বড় দিন। এটা অফিসিয়াল। সকাল ৮:১০ মিনিটে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এটা টিভিতেও দেখানো হয়েছে। ভুলে যাবেন না, আগামীকাল থেকে নতুন ফেসবুক নিয়ম (অর্থাৎ নতুন নাম, মেটা) চালু হচ্ছে, যার অধীনে কোম্পানি আপনার ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবে। মনে রাখবেন, এর সময়সীমা আজই শেষ। এই বার্তার যেকোনো স্থানে আঙুল দিন, ‘কপি’ দেখা যাবে। ‘কপি’ তে ক্লিক করুন। এরপর নিজের পেজে যান, একটি নতুন পোস্ট তৈরি করুন এবং খালি স্থানে আঙুল দিন, ‘পেস্ট’ দেখাবে – ‘পেস্ট’ এ ক্লিক করুন। এটি সিস্টেমকে বাইপাস করতে সাহায্য করবে। যারা কিছু করেন না, তারা সম্মতি দিচ্ছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। ৬০ মিনিটস শো অনুযায়ী: যদি আপনি এটি মিস করে থাকেন, তাহলে জানিয়ে রাখি যে একজন আইনজীবী আমাদের এই পোস্টটি করার পরামর্শ দিয়েছেন। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে। আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে আমি ফেসবুক বা মেটাকে আমার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি না।”
বাস্তবতা কী?
বিশেষজ্ঞরা এবং প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি একটি ভুয়া বার্তা (hoax message) যা ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। “হুজুগে বাঙালি” প্রবাদটি এক্ষেত্রে বেশ মানানসই, কারণ যাচাই না করেই অনেকে এই ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন।
১. ফেসবুকের নিয়ম পরিবর্তন: ফেসবুক (মেটা) তাদের কোনো নতুন নিয়ম চালু করলে তা সবসময় তাদের অফিশিয়াল পেজে ঘোষণা করে এবং প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠায়। এমন কোনো ‘নতুন নিয়ম’ বা ‘ছবি ব্যবহারের অনুমতি’ সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা ফেসবুকের পক্ষ থেকে আসেনি।
২. পোস্ট কপি-পেস্ট করে লাভ নেই: ফেসবুক যখন কোনো ব্যবহারকারীকে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়, তখন ব্যবহারকারীকে তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস (শর্তাবলী) মেনে নিতে হয়। এই শর্তাবলীতেই ফেসবুক কীভাবে আপনার তথ্য ব্যবহার করবে তা বিস্তারিত লেখা থাকে। একবার এই শর্তাবলী মেনে নিলে, পরবর্তীতে কোনো পোস্ট কপি-পেস্ট করে আপনার ডেটা ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
৩. গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষা: মেটার টার্মস অব সার্ভিস স্পষ্টভাবে বলে যে তারা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন নাম, ই-মেইল আইডি) বিক্রি করে না। ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপনদাতাকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া হয় না।
৪. পূর্ববর্তী ঘটনা: এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালেও একই ধরনের ভুয়া বার্তা ফেসবুকে ছড়িয়েছিল।
আপনার ডেটা কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন খবরের থেকে দূরে থাকা উচিত। যদি আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা (privacy) নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে ফেসবুকের প্রাইভেসি অপশনে গিয়ে আপনি আপনার প্রোফাইলকে আরও বেশি সুরক্ষিত করতে পারবেন। সেখানে আপনি আপনার পোস্ট, ছবি, এবং ব্যক্তিগত তথ্যের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
সুতরাং, এই ধরনের ভুয়া পোস্টে কান না দিয়ে, ফেসবুকের অফিশিয়াল সোর্স থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।