‘৪৮ ঘণ্টায় শায়েস্তা করার বড়াই, অথচ যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা!’ -অপারেশন সিঁদুরের অন্দরের কাহিনী ফাঁস

দিনটা ছিল ২০২৫ সালের ১০ মে। তখন পুরো দমে চলছে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’। একদিকে পাকিস্তানের একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি ও সামরিক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ভারতীয় সেনা, অন্যদিকে ঠিক সেই দিন সকালেই ডিজিএমও (DGMO) হটলাইনের মাধ্যমে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতি চেয়ে কার্যত হাতজোড় করে বসে পাকিস্তান। কিন্তু সেই প্রস্তাবে এককথায় রাজি হয়নি ভারত। ইচ্ছাকৃতভাবেই ইসলামাবাদকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়। কারণ, ভারতের নিখুঁত সামরিক পরিকল্পনার অর্ধেক কাজ তখনও বাকি ছিল!

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ভারতের তৎকালীন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের মূল লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট টার্গেট পুরোপুরি অর্জন করা। তার আগে কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার প্রশ্নই ছিল না।

অপারেশন সিঁদুরের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন জেনারেল চৌহান। তাঁর দাবি, পাকিস্তান প্রথমে ভেবেছিল ভারতের ওপর তাদের হামলা সফল হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দিল্লির বিধ্বংসী ও তীব্র পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়ে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আর্জি জানায় তারা।

কীভাবে হয়েছিল যুদ্ধবিরতি?

এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলে জেনারেল চৌহান জানান, ১০ মে সকালে পাকিস্তান হঠাৎ করেই ভারতকে ফোন করে আলোচনার প্রস্তাব দেয়, যা তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে বড় চমক।

তিনি বলেন, “৯ মে পাকিস্তানের তরফে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বার্তা দেওয়া হচ্ছিল যে, তারা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতকে শায়েস্তা করে দেবে। কিন্তু ঠিক তার পরের দিন সকালেই তারা যুদ্ধবিরতির জন্য ফোন করল!”

জেনারেল চৌহানের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মে রাত থেকে ১০ মে দুপুর পর্যন্ত ভারত একনাগাড়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি এবং বিমানঘাঁটিতে লাগাতার হামলা চালায়। এই সুনির্দিষ্ট বিমান হানায় পাকিস্তানের একাধিক হ্যাঙ্গার, রাডার স্টেশন এবং বেশ কিছু যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভারতের এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তানকে একটি কড়া বার্তা দেওয়া ছিল বলে জানান তিনি। পাকিস্তানকে এটা বুঝিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য ছিল যে, তাদের দেশের ভেতর থাকা কোনো সামরিক ঘাঁটিয়েই ভারতের নাগালের বাইরে নয়। ভারতের এই বিধ্বংসী আক্রমণে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি, রহিম ইয়ার খান এবং ভোলারি বিমানঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে, এখনও সেখানে মেরামতির কাজ চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

‘আমাদের পরিকল্পনার অর্ধেকও তখন শেষ হয়নি’

পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির আর্জি প্রসঙ্গে জেনারেল চৌহান বলেন, “মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ফোন করেছিল। অথচ তখন আমাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি।”

তাঁর মতে, পাকিস্তান মর্মে মর্মে বুঝতে পেরেছিল যে এই সংঘর্ষ যদি আরও কিছুদিন চলতে থাকে, তবে তাদের আরও বড় এবং অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, যা সামলানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। সেই কারণেই তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। জেনারেল চৌহান আরও বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টায় পাকিস্তান ফোন করলেও আমরা সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নিইনি, বরং দুপুর পর্যন্ত আমাদের অভিযান চালিয়ে গিয়েছি।”

কেন শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’?

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগাঁওয়ে একটি নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২৫ জন সাধারণ পর্যটক নিহত হন। এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে সরাসরি পাকিস্তানের মদত ছিল। এর কড়া জবাব দিতেই ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রথম দফায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ৯টি বড় জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত আক্রমণ চালায় ভারত।

এর পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভারতের সুদৃঢ় ও মুক্ম আদ্রতার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই সমস্ত আক্রমণ সহজেই প্রতিহত করে। আর এর পরই পাকিস্তানের সমস্ত दुस्সাহস গুঁড়িয়ে দিতে তাদের মূল সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে সর্বাত্মক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *