Chat GPT-তে আসছে কেনাকাটার নতুন টুল, জেনেনিন কী কী মিলবে সুবিধে?

অনলাইন কেনাকাটার বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকারী অ্যামাজন ও গুগলের মতো ই-কমার্স জায়ান্টদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে (ChatGPT) নতুন একটি অত্যাধুনিক এআই শপিং টুল যুক্ত করেছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI)। এই নতুন টুলের মাধ্যমে এখন চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা সরাসরি অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তাদের এই এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য “বিভিন্ন পণ্যকে দ্রুত খুঁজে বের করা, সেগুলোকে অন্য পণ্যের সঙ্গে সহজেই তুলনা করা এবং অনলাইনে পণ্য কেনার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করে তোলাই” এই নতুন আপডেটের মূল লক্ষ্য।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শক্তিশালী নতুন এআই টুলটি ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে কোনো পণ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তরে এটি সেই পণ্যের ছবি, তার হালনাগাদ মূল্য এবং পণ্যটি সরাসরি কেনার জন্য লিঙ্কও সরবরাহ করবে।
ওপেনএআই দৃঢ়ভাবে দাবি করেছে যে, চ্যাটজিপিটি কর্তৃক প্রদর্শিত এসব পণ্যের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে ‘স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া হবে’। প্রতিষ্ঠানটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এগুলো কোনো ‘বিজ্ঞাপন নয়’। বরং, চ্যাটজিপিটির এই নতুন টুলটি ব্যবহারকারীর কেনাকাটার আগ্রহ এবং অভিপ্রায়ের ওপর ভিত্তি করে পণ্যগুলি নির্বাচন করবে।
এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে, “চ্যাটজিপিটি যখন বুঝতে পারবে যে এটি ব্যবহারকারীর কেনাকাটার উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক, তখনই প্রাসঙ্গিক পণ্যগুলি একটি ভিজ্যুয়াল ক্যারোসেলের (visual carousel) আকারে দেখানো হবে।” তারা আরও জানিয়েছে, “ব্যবহারকারীর প্রশ্ন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে, যেমন ব্যবহারকারী পূর্বে কী সার্চ করেছেন বা তার নির্দিষ্ট কোনো পছন্দ রয়েছে কিনা, সেগুলোর ভিত্তিতে চ্যাটজিপিটি তাদের কেনাকাটার অভিপ্রায় মূল্যায়ন করবে।”
কোন পণ্যগুলি ব্যবহারকারীর সামনে দেখানো হবে তা নির্ধারণের সময় চ্যাটজিপিটি পণ্যের দাম, অন্যান্য গ্রাহকদের রেটিং এবং সেইসব পণ্যের বিভিন্ন পর্যালোচনার মতো সাধারণ বিষয়গুলি বিবেচনা করবে। এছাড়াও, এআই বটটি পণ্যের আকার এবং এর আগে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য ব্যবহারকারীর পছন্দ বা অপছন্দ রয়েছে কিনা, এমন আরও নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডও মূল্যায়ন করবে। ওপেনএআই বলেছে, এসব পণ্য বিক্রিকারী বিভিন্ন কোম্পানির নিরাপত্তা মানও তারা বিবেচনায় আনবে। তবে, এই প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে বলে তারা স্বীকার করেছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন আপডেটটি সমস্ত চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর জন্য উপলব্ধ হতে শুরু করেছে, যা অনলাইন খুচরা বাজারে সম্ভাব্য এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টা অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স বাজারের মূল্য ২০২৫ সালে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ মানুষ পণ্য খোঁজার জন্য অ্যামাজন ও গুগলকেই প্রধানত ব্যবহার করেন।
তবে অনলাইন সার্চের ক্ষেত্রে ওপেনএআই ইতিমধ্যেই গুগল থেকে কিছুটা বাজার অংশীদারিত্ব নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি ছুঁয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্ম ‘বেইন’-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ৮০ শতাংশ গ্রাহক তাদের সার্চের অন্তত ৪০ শতাংশের জন্য এআই জেনারেটেড ফলাফলের ওপর নির্ভর করেন। এর ফলে চলতি বছরে গুগলের সার্চ বাজারের শেয়ার ৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে চ্যাটজিপিটিতে নতুন শপিং টুলের সংযোজন ই-কমার্স সার্চের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।