“৭০ শতাংশ দাম বাড়লো ২৪ ঘন্টায়”-ট্রাম্পের সঙ্গে ‘নৈশভোজের লোভে’ বাড়ল ক্রিপ্টোমুদ্রার দাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রিপ্টোমুদ্রার প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ক্রিপ্টোমুদ্রার (মিম কয়েন) দামে ব্যাপক उछাল দেখা গেছে।

ট্রাম্পের এই মিম কয়েনটির ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, আগামী ২২শে মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২২০ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীকে একটি বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাবেন। ওয়েবসাইটটি এই আমন্ত্রণকে ‘বিশ্বের সেরা এক্সক্লুসিভ আমন্ত্রণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই গালা নৈশভোজটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব’-এ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, এই ক্রিপ্টোমুদ্রাটির শীর্ষ ২৫ জন কয়েনধারীর জন্য ‘প্রেসিডেন্টের সেরা এক্সক্লুসিভ প্রাইভেট ভিআইপি সংবর্ধনা’র ব্যবস্থাও থাকবে।

ক্রিপ্টো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কয়েনবেইস অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিশেষ ঘোষণা আসার পরপরই তার সঙ্গে সম্পর্কিত ওই ক্রিপ্টোমুদ্রার দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। যদিও বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে উন্মোচনের পরেই ডিজিটাল মুদ্রাটির দাম রেকর্ড ৭৪ ডলারে পৌঁছেছিল, সেই তুলনায় বর্তমান দাম এখনও কিছুটা নিচে রয়েছে।

এটি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাতে চালু হওয়া বেশ কয়েকটি ক্রিপ্টো সম্পর্কিত উদ্যোগের মধ্যে একটি। এই ডিজিটাল মুদ্রাটি চালুর সময় ট্রাম্প নিজেকে ‘ক্রিপ্টো প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বর্তমানে প্রচলিত ট্রাম্প টোকেনগুলির মোট মূল্য প্রায় আড়াইশ কোটি ডলার। গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার অভিষেকের (সম্ভবত এই বছরের) কয়েকদিন আগেই এগুলো উন্মোচন করা হয়।

শুধু ডনাল্ড ট্রাম্পই নন, উদ্বোধনের প্রাক্কালে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও একটি ক্রিপ্টোমুদ্রা চালু করেছিলেন। ট্রাম্পের ক্রিপ্টো সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলির সমালোচনা করেছেন ক্রিপ্টো শিল্পের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। কেউ কেউ এটিকে কেবলমাত্র ‘স্টান্ট’ বা প্রচারের কৌশল বলেও বর্ণনা করেছেন। বিবিসি লিখেছে, বেশিরভাগ সময় এই ধরনের মিম কয়েনগুলি ফাটকাবাজরা অর্থ উপার্জন করতে বা ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে কোনো সেলিব্রিটি বা মুহূর্তকে সমর্থন জানাতে ব্যবহার করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প নতুন ক্রিপ্টো আইন ও নীতিমালা প্রস্তাবের জন্য একটি ‘প্রেসিডেন্টস ওয়ার্কিং গ্রুপ’ তৈরির লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এছাড়াও, তিনি ‘স্ট্রাটেজিক বিটকয়েন রিজার্ভ’ বা কৌশলগত ডিজিটাল সম্পদ মজুদের জন্য আরেকটি আদেশে সই করেছেন, যার মধ্যে অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তহবিলগুলি ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলার অংশ হিসাবে ফেডারেল সরকারের কাছে বাজেয়াপ্ত হওয়া ক্রিপ্টোমুদ্রা দিয়ে তৈরি করা হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ক্রিপ্টোমুদ্রার বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তার এই পদক্ষেপগুলি একদিকে যেমন ভক্তদের উৎসাহিত করছে, তেমনই বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখেও পড়ছে। তার শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইভেন্ট আয়োজনের ঘোষণা তার ডিজিটাল সম্পদের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন।