অ্যাপল ও মেটাকে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা, জেনেনিন সম্পূর্ণ মামলা

ডিজিটাল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল এবং মেটার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। টেক জায়ান্ট দুটিকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ইইউ অ্যাপলকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬০০০ কোটি টাকা) এবং মেটাকে ২০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা) জরিমানা করেছে।
ইইউ কমিশনের অভিযোগ, অ্যাপল তাদের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA)-এর ‘অ্যান্টি-স্টিয়ারিং’ বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে অ্যাপল ব্যবহারকারীদের বিকল্প পরিষেবা বা অফার সম্পর্কে সহজে জানার সুযোগ দেয়নি।
অন্যদিকে, মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে বিকল্প পরিষেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। মেটার ‘পে ফর প্রাইভেসি’ (Pay for Privacy) সিস্টেমটিও এই অভিযোগের কারণ, যেখানে ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষার জন্য অর্থ প্রদান করতে হয়, অথবা বিনামূল্যে পরিষেবা ব্যবহারের জন্য ডেটা শেয়ার করতে সম্মত হতে হয়।
এই জরিমানার বিষয়ে অবশ্য উভয় কোম্পানিই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। অ্যাপল তাদের এক বিবৃতিতে বলেছে, কমিশন অন্যায়ভাবে এই জরিমানা করেছে এবং এই সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
অন্যদিকে, মেটা আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ করেছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন “সফল মার্কিন ব্যবসাগুলোকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে।”
ইইউ কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে অ্যান্টিট্রাস্ট কমিশনার টেরেসা রিবারা বলেছেন, এই জরিমানা একটি “শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা” বহন করে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ “দৃঢ় কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ”।
কমিশনের মুখপাত্র টমাস রেগনিয়ার জানিয়েছেন, এই জরিমানা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ডিজিটাল আইন প্রয়োগে কতটা কঠোর হতে পারে, এই জরিমানা তার একটি বড় উদাহরণ। এর মাধ্যমে ইইউ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোর আপত্তির কারণে এই সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোতে পারে।