অনলাইন বুলিং নিয়ন্ত্রণে স্কুলের সঙ্গে কাজ করবে ইনস্টাগ্রাম, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন একটি অংশীদারত্ব কর্মসূচি চালু করেছে মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম। এই কর্মসূচির আওতায়, যাচাইকৃত স্কুল অ্যাকাউন্ট থেকে জমা দেওয়া নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি দ্রুততার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই কর্মসূচিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাসরি অ্যাপের নিয়মাবলী লঙ্ঘনকারী পোস্ট অথবা শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবে। এই অভিযোগগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, এর মাধ্যমে শিক্ষকদের সহায়তা করা যাবে, যাতে তারা বুলিং-এর মতো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির বিষয়ে সহজে এবং সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি স্কুলের প্রোফাইলে একটি অংশীদারত্বের ব্যানার দৃশ্যমান হবে, যা দেখে বোঝা যাবে যে তারা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ইনস্টাগ্রাম শিক্ষক, অভিভাবক, সুরক্ষাকারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাপটিকে নিরাপদে ব্যবহার করার বিষয়ে শিক্ষামূলক বিভিন্ন উৎস এবং টিপস সরবরাহ করবে।
গত বছর থেকে ইনস্টাগ্রাম ৬০টি স্কুলে এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইএসটিই (ISTE) এবং এএসসিডি (ASCD) নামক দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সহযোগিতা করেছে। অন্যান্য মার্কিন বিদ্যালয়গুলিও এই কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য একটি অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ইনস্টাগ্রাম ইতিমধ্যেই অনলাইনে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ কিশোর অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত থাকে এবং মেসেজিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও, অভিভাবকদের জন্য এই অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার সুযোগও রয়েছে। নতুন এই অংশীদারত্ব কর্মসূচি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে আরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার তুলে দেবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।