“খাঁটি পেট্রল কি তোমার বাবার বাড়ি থেকে আসবে?”-E20 জ্বালানির বিরোধিতায় বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ!

পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো বা E20 জ্বালানি নীতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই এক বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার বিজেপি সাংসদ জনার্ডন মিশ্র। ইথানল মিশ্রণের বিরোধিতা করে যারা শুধুমাত্র ‘খাঁটি পেট্রল’ ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছেন, তাঁদের একহাত নিয়ে সাংসদের সরাসরি প্রশ্ন— “খাঁটি পেট্রল কি তোমার বাবার বাড়ি থেকে আসবে?” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের ইথানল নীতির সওয়াল
রবিবার রেওয়া বিমানবন্দরে একটি নতুন বিমান পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের ইথানল মিশ্রণ নীতির জোরালো পক্ষে সওয়াল করেন জনার্দন মিশ্র। তাঁর মূল যুক্তি ছিল, ভারত নিজের প্রয়োজনের মাত্র ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করতে পারে। বাকি ৮০ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই পেট্রলে ইথানল মেশানো বাধ্যতামূলক ও অত্যন্ত জরুরি।
‘দেশে খাঁটি পেট্রলই নেই, আসবে কোথা থেকে?’
E20 নীতির বিরোধিতাকারীদের তীব্র সমালোচনা করে জনার্দন মিশ্র বলেন, দেশে বর্তমানে এমন একটি আন্দোলন চলছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ইথানল নয়, শুধুমাত্র খাঁটি পেট্রলই ব্যবহার করতে হবে। এর পরেই মেজাজ হারিয়ে তিনি বলেন, “দেশে যখন খাঁটি পেট্রলই নেই, তখন সেটা আসবে কোথা থেকে? তোমার বাবার বাড়ি থেকে?” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে ভারতে আসতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল দেশ কীভাবে শুধুমাত্র খাঁটি পেট্রলের ওপর ভরসা করে চলবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ব্রাজিলের উদাহরণ দিয়ে সাংসদ জানান, সেখানে ১০০ শতাংশ ইথানল-চালিত গাড়ি সফলভাবে চললেও ভারতেই এটি নিয়ে অযথা রাজনৈতিক বিরোধিতা করা হচ্ছে।
বিরোধীদের ক্ষোভ
সাংসদের এই ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা এবং মন্তব্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের জ্বালানি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আর সেই বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে একজন দায়িত্বশীল সাংসদের এমন মন্তব্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।