বাজারে দেদার বিকোচ্ছে বিষাক্ত নকল দারচিনি! আসল চিনবেন কীভাবে?

রান্নাঘরের অন্যতম প্রধান মসলা দারচিনি। স্বাদ ও সুবাস বাড়াতে এই উপাদানটির জুড়ি মেলা ভার। তবে সম্প্রতি বাজারে দেদার বিকোচ্ছে এক ধরনের নকল দারচিনি, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই নকল দারচিনি আসলে ‘কাসিয়া’ (Cassia) নামক এক সস্তা গাছের ছাল, যাতে ‘কুমாரின்’ (Coumarin) নামক একটি বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত কুমாரின் খাওয়ার ফলে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের রান্নায় অবচেতনভাবেই আমরা এই বিষাক্ত উপাদান গ্রহণ করছি। তবে একটু সচেতন হলেই খালি চোখে আসল এবং নকল দারচিনি খুব সহজে চিনে নেওয়া সম্ভব।

আসল ও নকল দারচিনি চেনার উপায়গুলি হলো:

গঠন ও স্তর: আসল দারচিনি (সিলন দারচিনি) বেশ পাতলা ও নরম হয় এবং এর গায়ে কাগজের মতো একাধিক সূক্ষ্ম স্তর বা ভাজ থাকে। অন্যদিকে, নকল কাসিয়া দারচিনি অত্যন্ত পুরু, শক্ত এবং এর ভেতরে মাত্র একটি বা দুটি মোটা স্তর দেখা যায়।

রঙের তফাত: আসল দারচিনির রঙ হয় হালকা বাদামি বা সোনালী খয়েরি। কিন্তু নকল বা কাসিয়া দারচিনির রঙ অনেকটাই গাঢ় খয়েরি বা কালচে লাল রঙের হয়ে থাকে।

ভাঙার কায়দা: আসল দারচিনি হাতের চাপেই খুব সহজে ভেঙে গুঁড়ো করা যায়। কিন্তু নকল দারচিনি এতটাই শক্ত হয় যে তা ভাঙতে হাতুড়ি বা শক্ত কোনো জিনিসের সাহায্য নিতে হয়।

গন্ধ ও স্বাদ: আসল দারচিনির সুবাস অত্যন্ত মিষ্টি এবং মৃদু। পক্ষান্তরে, নকল কাসিয়া দারচিনির গন্ধ বেশ তীব্র, কড়া এবং মুখে দিলে কিছুটা ঝাঁঝালো বা তেতো স্বাদ পাওয়া যায়।

বাজার থেকে মসলা কেনার সময় একটু চোখ কান খোলা রাখলেই এই ধোঁকাবাজি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আজই আপনার সংগ্রহে থাকা দারচিনিটি ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *