রাজনীতি কেন নিয়ন্ত্রণ করবে ক্রীড়াক্ষেত্র? সরাসরি তোপ দেগে ৪শ কোটি টাকার বাম্পার প্রজেক্ট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ক্রীড়া দিবসে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের জন্য ঢালাও অনুদান ও সরকারি চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে আটকে থাকা ফাইল অবশেষে ছাড়পত্র পেল। মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত না করার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠান থেকে ১৪৫ জন কৃতী ক্রীড়াবিদকে মোট ৪ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার এবং সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সোনাজয়ী অভিনব শ-কে ২৫ লক্ষ টাকা এবং তহুরা খাতুনকে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্পোর্টস কোটায় একাধিক তরুণ-তরুণীর হাতে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
পূর্ববর্তী সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে না থেকে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্রীড়া সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা এবার বন্ধ হবে। বাংলার খেলোয়াড়দের মেধা থাকলেও সহযোগিতা ও পরিকাঠামোর অভাবে তাঁরা পিছিয়ে ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্রীড়ার পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে আধুনিক সুবিধাযুক্ত ‘শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়াম’ বা মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা করেছেন তিনি। যার মধ্যে চলতি বছরেই ১০০টি স্টেডিয়াম গড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কলকাতার স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং ‘অটল খেল সম্মান’-এর আওতায় জাতীয় ক্লাবগুলিকে প্রতি বছর এক কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতে লিওনেল মেসির সফরকালে ৩৩ হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর সঙ্গে প্রতারণার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই সমস্ত মানুষের টাকা ফেরানোর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন তিনি।