বর্ষায় শাকসবজি খাচ্ছেন মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি ডেকে আনছেন না তো? এই মারাত্মক বিপদ থেকে বাঁচতে এখনই জানুন!

বর্ষাকালে বাজারে সবুজ শাকসবজির রকমারি পসরা দেখা গেলেও, তা খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন খাদ্য নিরাপত্তা চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এই সময়ে পালং, কলমি, পুঁই বা লালশাকের পাতা ও কান্ডের ভাঁজে নানা ধরনের অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া, পোকা এবং ছোট ছোট কৃমির ডিম আটকে থাকে। অসাবধানতাবশত এই পোকা পেটে গেলে পেটের মারাত্মক সংক্রমণ, ফুড পয়জনিং এমনকী জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই বর্ষায় শাক বাজার থেকে এনে সোজা কড়াইতে না তুলে, রান্নার আগে বিশেষ কিছু উপায়ে তা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে রইল সহজ ও কার্যকরী কিছু উপায়—

১. শাক বেছে নেওয়া ও পরিষ্কার করা
শাক বাজার থেকে আনার পর শুরুতেই না ধুয়ে প্রথমে আঁটি খুলে ভালো করে দেখে নিন। পচা, হলুদ হয়ে যাওয়া বা পোকা খাওয়া পাতাগুলো কেটে বাদ দিন। এরপর পাতার উল্টো পিঠ ও ডাঁটার সন্ধিস্থল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিন, কারণ বিষাক্ত পোকা বা কৃমির ডিম সাধারণত সেই লুকনো জায়গাগুলোতেই বেশি থাকে।

২. নুন ও ইষদুষ্ণ জলের বাথ
একটি বড় বাটিতে হালকা গরম জল নিয়ে তাতে ২ চা-চামচ নুন মিশিয়ে দিন। এরপর বেছে রাখা শাক এই নুন-জলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। নুন ও ইষদুষ্ণ জলের এই মিশ্রণে পাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য পোকা বা ময়লা আলগা হয়ে সহজেই জল ওপরে ভেসে ওঠে।

৩. ভিনেগার বা লেবুর রসের ব্যবহার
শাকের গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক কীটনাশক ধ্বংস করতে ১ লিটার জলে ১ কাপ সাদা ভিনেগার বা ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে শাক কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে শাকে থাকা জীবাণু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়।

৪. একাধিকবার ঠান্ডা জলে ধোয়া
নুন বা ভিনেগারের জলে ভিজিয়ে রাখার পর শাকগুলো জল থেকে তুলে খোলা ট্যাপের নিচে বা বড় পাত্রে ঠান্ডা জলে ৩ থেকে ৪ বার ভালো করে কচলিয়ে ধুয়ে নিন। প্রতিবার পাত্রের জল বদলে নেওয়া জরুরি, যাতে অবশিষ্ট নোংরা বা পোকা পাত্রের তলায় তলিয়ে যায়।

৫. জল ঝরিয়ে ভালোভাবে রান্না
ধোয়ার পর জল ঝরানোর ছাঁকনিতে রেখে শাকের অতিরিক্ত জল সম্পূর্ণ ঝরিয়ে নিন। রান্না করার সময় হালকা ভাজা বা আধসেদ্ধ না করে, কড়াইতে ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে নিন। উচ্চ তাপে রান্না করলে খাবারে থাকা অবশিষ্ট জীবাণুও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *