বেশি কাজ করলেই কি প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে? অজান্তেই এই ভুলগুলি করছেন না তো! জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

ব্যস্ত জীবনে একসঙ্গে অনেক কাজ করার বা দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করার প্রবণতাকেই অনেকে বেশি ‘প্রোডাক্টিভিটি’ বা উৎপাদনশীলতার লক্ষণ বলে মনে করেন। কিন্তু প্রচলিত এই অভ্যাসই আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত করে তুলতে পারে এবং কাজের দক্ষতাকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিকারের উৎপাদনশীলতা কখনোই নিজেকে ক্লান্ত বা অবসন্ন করে তোলার ওপর নির্ভর করে না; বরং কিছু প্রচলিত ভুল অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

১. একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা (Multitasking)
অনেকেই মনে করেন, একই সময়ে একাধিক কাজ করলে সময় বাঁচে। কিন্তু গবেষণা বলছে, মাত্র ২.৫ শতাংশ মানুষ সত্যিকার অর্থে দক্ষতার সঙ্গে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারেন।

একদিকে অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়া, অন্যদিকে ইমেইল দেখার মতো অভ্যাসে কোনো কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া যায় না।

বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ সরাতে গিয়ে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

ফলে কাজ শেষ হতে বেশি সময় লাগে এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই এক সময়ে একটি কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়াই শ্রেয়।

২. বিরতি না নেওয়া
ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই দুপুরের খাবারের সময়ও কাজ চালিয়ে যান বা নির্ধারিত বিরতিগুলো এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বদলে উল্টো কমিয়ে দেয়। একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করলে মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। নিয়মিত ছোট বিরতি শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, ফলে কাজে ফিরে নতুন উদ্যমে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

৩. অতিরিক্ত দীর্ঘ কাজের তালিকা তৈরি
কাজের তালিকা বা টু-ডু লিস্ট অনেকের কাছেই উৎপাদনশীলতার হাতিয়ার। তবে তালিকাটি খুব দীর্ঘ হলে তা অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই করণীয় তালিকা ছোট রাখুন এবং সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। এতে কোন কাজটি আগে করা উচিত, তা নির্ধারণ করা সহজ হয়।

৪. সব সময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা (‘Always On’ Mindset)
অফিসের সময় শেষ হওয়ার পরও অনেকেই ফোন, ইমেইল বা মেসেজের অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষজ্ঞ শায়না বার্গম্যানের মতে, এই ‘অলওয়েজ অন’ মানসিকতা মানুষের মানসিক শক্তি দ্রুত ক্ষয় করে। কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ না থাকলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি, উদ্বেগ এবং ‘বার্নআউট’-এর ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাই কাজের সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানা অত্যন্ত জরুরি।

৫. সব অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলা
অন্যকে খুশি রাখতে অনেকেই নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব ঘাড়ে নেন। বিশেষজ্ঞ কাইল এলিয়টের মতে, সব অনুরোধে সম্মতি দেওয়া উদারতা নয়, বরং এটি বিরোধ এড়ানোর চেষ্টা মাত্র। এতে নিজের সময় ও শক্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং অন্যরা আপনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দীর্ঘমেয়াদে কাজের চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *