এপসম সল্ট বা গোলাপি লবনের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা দিক সম্পর্কে জেনেনিন

লবন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রান্না করার কাজে ব্যাপক ভাবে ব্যাবহার করা হয়। কিন্তু আমরা যে লবন টি রান্না ও খাবারের কাজে ব্যাবহার করি তার কিছু স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে। কিন্তু এপসম সল্ট বা গোলাপি লবন জেই দিক থেকে অনেকটাই ভাল।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানান সমস্যা লেগেই আছে। ছোটখাটো অসুখ বা রোগের জন্য আমরা অনেক সময়েই ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগিয়ে থাকি, যার সুফল আমরা হাতেনাতে পাই। এরকমই একটা ঘরোয়া টোটকা হলো এপসম সল্ট।

আমরা অনেকেই এর নাম শুনেছি। কিন্তু আমাদের শরীরের উপর এর প্রভাব বা সুফল অনেকটাই। এপসম সল্ট কিন্তু সাধারণ লবণ বা টেবিল সল্ট থেকে পুরোটাই আলাদা। আদপেই এটা সল্ট বা লবণ নয়, শুধুমাত্র দেখতে লবণের মত এবং লবণের মতই কেলাসাকার বলে একে সল্ট বলা হয়।

এর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের অত্যাবশকীয় খনিজ, যা এই এপসম সল্টে প্রচুর পরিমাণ পাওয়া যায়। দু’ধরনের এপসম সল্ট হয়। একটা কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য, আর একটা রান্নার জন্য।

এই এপসম সল্টের অনেক গুণ আছে, যার জন্য এর কদর অনেক বেশি। অনেক কাজে এবং আমাদের শরীরের অনেক উপকারে লাগে এই লবণ। তার মধ্যে সেরা দশটা হলো-

১. স্নায়ুতন্ত্রকে ভালো রাখে এপসম সল্ট। স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী। পরিমিত পরিমাণে এই সল্ট আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে ভালো রাখে। এর ম্যাগনেসিয়াম আয়নের উপস্থিতি স্নায়ুকে বাইরের এবং শরীরের ভেতরের সংকেত পাঠাতে এবং পেতে সাহায্য করে।

২. এর ব্যবহার মানবদেহের শরীরের স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। আমাদের দেহের অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ ভালো নয়। তাই পরিমিত ব্যবহার জরুরি। এছাড়াও এপসম সল্ট জলে মিশিয়ে স্নান করলে আমাদের শরীরে সেরোটোনিনের উপস্থিতি বৃদ্ধি করে, যা আমাদের চাপ কমাতে সাহায্য করে, আমাদের ভেতর থেকে শান্ত রাখে।

৩. আজকের দিনে কম বেশি প্রায় সবার ব্লাড সুগার আছে। সুগার এমন এক ক্ষতিকারক রোগ যা শরীরের বাকি কর্ম ক্ষমতা ক্রমশ নষ্ট করতে থাকে। এই এপসম সল্ট আমাদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। কারণ এতে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। পরিণামে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ভয় অনেকটাই কমে যায়।

৪. এটা সত্যি অবিশ্বাস্য যে, এই এপসম সল্ট আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা আমাদের শরীরের অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা আমাদের শরীরে laxative বা জোলাপের কাজ করে, যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা আছে। পরিমাণমতো জলের সাথে মিশিয়ে খেলে এর ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি অন্ত্রে জলের পরিমাণ ধরে রাখে, যা পরবর্তীতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হতে সাহায্য করে।

৫. পরিশ্রুত জল খাওয়ার জন্য আমরা অনেক সময় ফিল্টারের জল ব্যবহার করি। এতে অন্য খারাপ জিনিসের সাথে অনেক সময় জলের প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়, যার মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফারের ঘাটতি অন্যতম। সালফারের ঘাটতি খুব কম দেখা গেলেও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এপসম সল্ট এ ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৬. অনেকেই আছেন যারা মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট পান, মাথার যন্ত্রণা, বিশেষত: সাইনাসের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রেও এপসম সল্ট একইভাবে কার্যকরী। রোজমেরি, ল্যাভেন্ডার তেলের মত এসেনশিয়াল তেলের সাথে এপসম সল্ট মিশিয়ে তার ঘ্রাণ নিতে থাকলে অল্প সময়েই সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে আরাম পাবেন।

৭. মুখ ও শরীরের স্ক্রাব হিসেবে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এপসম সল্ট সমানভাবে সাহায্য করে। আধ চামচ এপসম সল্ট পরিমাণ মতো অলিভ অয়েলে মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল আপনার জন্য বডি স্ক্রাব। মধু আর অলিভঅয়েলে এই সল্ট মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন ফেসিয়াল স্ক্রাব। এপসম সল্ট মুখের বা শরীরের মৃত কোষগুলোকে সহজেই পরিষ্কার করে।

৮. কোনো অজানা পোকা অনেক সময়েই আমাদের কামড়ায়। ডক্টরের কাছে যাওয়ার আগে সাময়িক উপশম পেতে উষ্ণ জলে এপসম সল্ট মিশিয়ে কামড়ের জায়গায় লাগান। আরাম পাবেন। মৌমাছি বা অন্য কোনোকিছু কামড়ালে তার হুল বের করতে একি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

৯. অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে আমাদের পায়ের পাতা খুব ব্যথা হয়। ক্লান্তি নেমে আসে সারা পায়ে। এপসম সল্ট দিয়ে এ ব্যথা সহজেই দূর করা যায়। এক গামলা জলে এক চামচ সল্ট মিশিয়ে মিনিট কুড়ি পা ডুবিয়ে রাখুন। ম্যাজিকের মতন কাজ হবে, আরামও পাবেন।

১০. ম্যাগনেসিয়াম শুধু আমাদের মানবদেহে না, উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। নিজের ছোট বাগান করবেন ভাবছেন, মাটি কি করলে উর্বর হবে তাই নিয়ে চিন্তিত। এ ক্ষেত্রে এপসম সল্ট মাটিতে মিশালে উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *