বক্সঅফিসে ফাটাফাটি আয় করছে ‘সিতারে জমিন পর’, ৬ দিনে কত আয় করল আমিরের ছবি?

তিন বছরের বিরতির পর বড়পর্দায় ফিরেই ঝড় তুলেছেন আমির খান। পরিচালক আরএস প্রসন্নর স্পোর্টস ড্রামা ‘সিতারে জমিন পর’ শুধু দর্শকের মন জয় করেছে না, বরং বক্স অফিসেও ছড়াচ্ছে আলো। মুক্তির পর মাত্র ছয় দিনের মাথায় ছবিটির সংগ্রহ ছাড়িয়েছে ৮২ কোটি টাকার গণ্ডি।
সিনেমাটির প্রথম দিনের আয় ছিল ১০.৭ কোটি টাকা। এরপর শনিবার ২০.২ কোটি এবং রবিবার ২৭.২৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে চমক লাগায়। যদিও সপ্তাহের দিনগুলিতে সংগ্রহে সামান্য ভাঁটা পড়েছে, তবুও বুধবারও ছবিটি আয় করেছে ৭.২৫ কোটি টাকা।
এই মুহূর্তে মোট বক্স অফিস কালেকশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২.৪ কোটি টাকা। এর ফলে, ছবিটি ২০২২ সালের হৃতিক রোশন ও সইফ আলি খান অভিনীত ‘বিক্রম বেদা’-কেও টপকে গিয়েছে, যার আয় ছিল ৭৮.৯ কোটি।
‘সিতারে জমিন পর’ আসলে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তারে জমিন পর’-এর আত্মিক সিক্যুয়েল। তবে গল্প একেবারে নতুন — এক বাস্কেটবল কোচের জীবন ঘিরে গড়ে উঠেছে ছবির প্লট, যিনি শাস্তিস্বরূপ কিছু নিউরোডাইভারজেন্ট ছাত্রছাত্রীকে খেলা শেখানোর দায়িত্ব পান। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই খেলাই হয়ে ওঠে ভিন্ন সক্ষমতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর আত্মবিশ্বাসের হাতিয়ার।
ছবির সংবেদনশীল কনটেন্ট এবং শক্তিশালী বার্তা সমালোচকদের পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
এই ছবির মাহাত্ম্য শুধু সিনেমা হলে নয়, পৌঁছে গিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনেও। বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ছবিটি দেখেছেন নিজের পরিবারের সদস্য ও কর্মীদের সঙ্গে। সেই স্ক্রিনিং-এর মুহূর্তগুলি নির্মাতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন।
“রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি ‘সিতারে জমিন পর’ দেখেছেন। তাঁর ও তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা ও উষ্ণতার জন্য আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রাষ্ট্রপতি ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন—এই অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য সবসময় লালিত স্মৃতি হয়ে থাকবে।”
সব মিলিয়ে, ‘সিতারে জমিন পর’ শুধুই একটি সিনেমা নয়, এটি একটি বার্তা—আত্মবিশ্বাস, সহানুভূতি ও অন্তর্দৃষ্টির। আর তারই সঙ্গে আমির খানের প্রত্যাবর্তন যেন জানিয়ে দিল, ভালো কনটেন্ট এখনও দর্শকের মন ছুঁয়েই যায়।