জগন্নাথ পুরীর রথযাত্রা সম্পর্কিত ২১টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনেনিন

আগামী ২৭ জুন, শুক্রবার থেকে ওড়িশার পুরী শহর ভাসবে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সাগরে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হচ্ছে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথযাত্রা। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং ভক্তি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আত্মিক জাগরণের এক ঐতিহাসিক মিলন।

বিশ্বাস করা হয়, এই রথযাত্রা শুধু দেখলেই হাজার যজ্ঞের পুণ্য লাভ হয়। তাই এবার আপনাকে জানাচ্ছি রথযাত্রা ঘিরে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

🌟 রথযাত্রা সংক্রান্ত ২১টি বিশেষ তথ্য:
রথ নির্মাণ প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে শুরু হয়—হিন্দু ক্যালেন্ডারে এক পবিত্র দিন।

রথ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ নিম কাঠ—যাকে বলা হয় দর্শনী দারু।

পুরো রথ নির্মাণে লোহা বা পেরেক ব্যবহার করা হয় না, সবই কাঠের খুঁটি ও জোড়ে তৈরি।

প্রতিবছর তৈরি হয় তিনটি রথ—
🔸 জগন্নাথের: নন্দী ঘোষ / গরুঢধ্বজ
🔸 বলভদ্রের: তালধ্বজ
🔸 সুভদ্রার: দর্পদলন / পদ্মরথ

তিনটি রথের রঙ ভিন্ন—
🔹 জগন্নাথ: লাল-হলুদ
🔹 বলভদ্র: লাল-সবুজ
🔹 সুভদ্রা: লাল-কালো

তিন রথের উচ্চতাও আলাদা—
🔸 জগন্নাথ: ৪৫.৬ ফুট
🔸 বলভদ্র: ৪৫ ফুট
🔸 সুভদ্রা: ৪৪.৬ ফুট

চাকার সংখ্যা ভিন্ন—
🔸 জগন্নাথ: ১৬টি
🔸 বলভদ্র: ১৪টি
🔸 সুভদ্রা: ১২টি

যাত্রার আগে পুরীর রাজা সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথ পরিষ্কার করেন—এই আচার ‘ছেড়া পহরা’ নামে পরিচিত।

জ্যেষ্ঠ পূর্ণিমাতে জগন্নাথের স্নানযাত্রা হয়—১০৮টি কলস দিয়ে স্নান করানো হয়।

স্নানের পর মহাপ্রভু হন অসুস্থ, ১৫ দিনের বিশ্রামকালকে ‘অনাসর’ বলা হয়।

এই সময় ভগবানকে আলাদা ঘরে রাখা হয়, ওষুধ ও ফল দিয়ে ‘ঔষধী সেবা’ করা হয়।

রথযাত্রা মানে ভগবানের মাসির বাড়ি গুন্ডিচা মন্দিরে গমন।

গুন্ডিচা মন্দিরে মহাপ্রভুর দর্শনকে ‘আদপ-দর্শন’ বলা হয়।

এই মন্দিরে ভগবানকে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন সুস্বাদু নৈবেদ্য ও খাবার।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রান্নাঘর।

এই রান্নাঘরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের জন্য মহাপ্রসাদ প্রস্তুত হয়।

এক আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য—যে পাত্র সবার উপরে থাকে সেটিই আগে রান্না হয়।

একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস, রথযাত্রার দিন বর্ষণ অনিবার্য, এটি ঈশ্বরের কৃপা।

রথ টানার দড়িকে বলা হয় ‘শঙ্খচূড়’, যাকে ছোঁয়ালে পাপমোচন হয়।

রথযাত্রায় বলভদ্রের রথ থাকে সামনে, তারপর সুভদ্রার, সর্বশেষে জগন্নাথের।

সুভদ্রার রথেই থাকে ভগবানের সুদর্শন চক্র, এটি ছাড়া রথযাত্রা অসম্পূর্ণ।

এই রথযাত্রা শুধু এক ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি জীবনের নবজাগরণ, আত্মিক অভিজ্ঞতা ও ভক্তির মহাসমুদ্র। পুরীর পথে পথে যখন রথ গড়ায়, তখন বিশ্বাসও গড়িয়ে পড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে।