মেয়ের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর স্নেহের চুম্বনে ভরালেন শ্রীময়ী, দেখুন ছবি

বাড়িতে অন্নপ্রাশনের চিরাচরিত নিয়ম না থাকার কারণে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ এক পুণ্য তিথিকে বেছে নিলেন তাঁদের ছোট্ট মেয়ে কৃষভির মুখেভাত দেওয়ার জন্য। অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিনে ইসকন মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে তাঁরা আয়োজন করলেন এই বিশেষ অনুষ্ঠানের, যেখানে বাবা কাঞ্চন ও মা শ্রীময়ী মিলে মেয়ের মুখে তুলে দিলেন প্রথম অন্ন, অর্থাৎ প্রসাদ। মন্দিরের আধ্যাত্মিক আবহে হওয়া এই অন্নপ্রাশনের নানান মুহূর্ত ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে এবং ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এই উদযাপনের কিছু মন ছুঁয়ে যাওয়া অদেখা মুহূর্ত নিজের ইনস্টা স্টোরিতে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন শ্রীময়ী।
শ্রীময়ীর ইনস্টাস্টোরিতে উঠে আসা দুটি ছবিতে ধরা পড়েছে কালীঘাট মন্দিরের সামনে কাটানো কিছু মুহূর্ত। সেখানে কৃষভিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে শ্রীময়ীকে, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অভিনেত্রীর মা, দিদি, জামাইবাবু এবং বোনঝি। ছবিগুলো দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ইসকনে অন্নপ্রাশনের মূল অনুষ্ঠানের পর তাঁরা কালীঘাট মন্দিরেও গিয়েছিলেন মেয়ের জন্য প্রার্থনা করতে। তবে এই ছবি দুটিতে কাঞ্চন মল্লিককে দেখা যায়নি। আরও একটি ভিডিওতে মা শ্রীময়ীর স্নেহ আর আদরে ভরে উঠেছে ছোট্ট কৃষভি। মাত্র ৫ মাসের মেয়ের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর স্নেহের চুম্বনে ভরিয়ে দিতে দেখা গেছে কৃষভির মা-কে। নিষ্পাপ কৃষভি তখন অবশ্য চারপাশের হইচই বা আদরের অর্থ কিছুই না বুঝে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল। এই মিষ্টি ভিডিওটির ক্যাপশনে শ্রীময়ী লিখেছেন, ‘Best ever lip kiss’।

ইন্সটাগ্রামের মূল ফিডে শ্রীময়ী চট্টরাজ তাঁর মেয়ে কৃষভির মুখেভাতের অনুষ্ঠানের আরও একটি সুন্দর ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে ইসকন মন্দিরের ভিতর হরিনাম সংকীর্তন চলছে এবং সেই তালে তালে নাতনি কৃষভিকে কোলে নিয়ে আনন্দে নাচছেন অভিনেত্রীর মা অর্থাৎ কৃষভির দিদা। ছোট্ট কৃষভিও যেন দিদার কোলে বসে সেই সুরের মূর্ছনায় গা ভাসিয়ে দুলছে। সকলে যখন এক সুরে ‘হরে কৃষ্ণ’ নাম গাইছিলেন, সেই মুহূর্তটিই ভিডিওতে বন্দি করেছেন শ্রীময়ী। এই ভিডিওটি পোস্ট করে কাঞ্চন-পত্নী ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘দিদুনের সঙ্গে হরে কৃষ্ণর তালে তালে নাচছে কৃষভি, রাধে রাধে, হরে কৃষ্ণ।’
যেহেতু ইসকনের মতো একটি পবিত্র স্থানে পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, তাই কৃষভির অন্নপ্রাশনের মেনু ছিল সম্পূর্ণ নিরামিষ। আত্মীয়স্বজন ও কাছের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এই ঘরোয়া অথচ সুন্দর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তারকা দম্পতি। মেনুতে ছিল কালো জিরে দেওয়া নরম আটার লুচি, ধবধবে সাদা ভাত, সুগন্ধী পোলাও, এঁচোড়ের মনকাড়া তরকারি, পনিরের পদ, ডাল, বেগুনী ভাজা, পাঁচ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি তরকারি, পাঁপড়, চাটনি এবং শেষ পাতে সুস্বাদু পায়েস। মাছ-মাংসের কোনও আয়োজন ছিল না। রুপোর একটি সুন্দর থালা করে ভাত, নানা রকম ভাজা এবং পায়েস দিয়ে সেদিন কৃষভিকে প্রথমবার অন্ন স্পর্শ করানো হয়।
মেয়ের এই বিশেষ দিনে মা শ্রীময়ী চট্টরাজ সেজেছিলেন একটি উজ্জ্বল লাল রঙের রেশম সিল্কের শাড়িতে, সঙ্গে পরেছিলেন মানানসই সোনার গয়না। বাবা কাঞ্চন মল্লিকের পরনে ছিল লাল সুতোর কাজ করা সাদা পাঞ্জাবি ও ধুতি। তিনি মেয়ের মুখে প্রসাদ দেওয়ার সময় পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গলায় মালাও পরেছিলেন। আর এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছোট্ট কৃষভিকে সাজানো হয়েছিল এক্কেবারে যেন রূপকথার রাজকন্যার মতো। তার পরনে ছিল একটি লাল টুকটুকে বেনারসি ছোট্ট ব্লাউজ সহযোগে। মাথায় ছিল সোনার ও শোলার মুকুট, কপালে ছোট্ট লাল টিপ, আর গলায় একাধিক সোনার হার – সব মিলিয়ে কাঞ্চন-কন্যাকে সেদিন ভীষণ মিষ্টি এবং স্নিগ্ধ দেখাচ্ছিল। ইসকনের পবিত্র পরিবেশে পারিবারিক আনন্দ আর স্নেহের মিশেলে কৃষভির মুখেভাতের অনুষ্ঠান হয়ে উঠল এক স্মরণীয় মুহূর্ত।