শিক্ষার ভারতীয়করণে বড় পদক্ষেপ! ভুবনেশ্বরে এবিভিপি-র জাতীয় সভায় ত্রি-ভাষা নীতি নিয়ে জোর আলোচনা

ওড়িশার ভুবনেশ্বরে শুরু হয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা। এই সভার উদ্বোধন করেন সংগঠনের জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক রঘুরাজ কিশোর তিওয়ারি, সাধারণ সম্পাদক ডঃ বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি এবং জাতীয় সাংগঠনিক মন্ত্রী আশীষ চৌহান। শিক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে এই সভায় বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ত্রি-ভাষা নীতি নিয়ে এবিভিপি-র অবস্থান:
সভার উদ্বোধনী দিনে সিবিএসই (CBSE)-এর ত্রি-ভাষা নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে এবিভিপি। ডঃ বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “শিক্ষাকে ভারতীয়করণ এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
এবিভিপি-র মূল দাবি ও প্রস্তাবনা:
এবিভিপি মনে করে, এই নীতিটি সঠিকভাবে কার্যকর করতে কিছু বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন:
পরীক্ষা পদ্ধতি: ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বোর্ড পরীক্ষাও ত্রি-ভাষা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বাস্তব সমস্যার মোকাবিলা: এই রূপান্তরকালীন সময়ে পাঠ্যপুস্তকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক ঘাটতির মতো সমস্যা সমাধানে বোর্ডের নমনীয় পদক্ষেপকে সংগঠনটি সাধুবাদ জানিয়েছে।
ভাষাগত বৈচিত্র্য: এবিভিপি-র মতে, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে তা শুধুমাত্র ভারতীয় ভাষাগুলোকে শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এক মাইলফলক হয়ে উঠবে।
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা:
বর্তমানে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে দেশজুড়ে আন্তঃরাজ্য অভিবাসন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ভাষাগুলোর জ্ঞান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ভুবনেশ্বরের এই সভায় জাতীয় শিক্ষা নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত খসড়া তৈরি হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনা এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করাই এই সভার মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।