পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অতীত ছিল, ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দিয়ে বোমা ফাটালেন ‘বিলাওয়াল ভুট্টো’!

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁও-এ ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে এবার পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মুখেই উঠে এলো দেশের সন্ত্রাসবাদী অতীত স্বীকার করে নেওয়ার কথা। পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী যোগের অতীত ছিল, যা সকলেরই জানা। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের একই ধরনের মন্তব্যের পর বিলাবলের এই স্বীকারোক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার স্কাই নিউজের ইয়ালদা হাকিমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভুট্টো বলেছেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী যা বলেছেন, আমি মনে করি না এটা কোন গোপন বিষয় যে পাকিস্তানের একটি অতীত আছে… এর ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা একের পর এক চরমপন্থার তরঙ্গের মধ্য দিয়ে গেছি। কিন্তু যা ভোগ করেছি তার ফলে আমরা শিক্ষাও পেয়েছি। এই সমস্যা মোকাবেলায় আমরা অভ্যন্তরীণ সংস্কার করেছি…” তিনি আরও বলেন, “যতদূর পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রশ্ন, এটি ইতিহাস এবং এটি এমন কিছু নয় যা আমরা আজ অংশ নিচ্ছি। এটা সত্য যে এটি আমাদের ইতিহাসের একটি দুর্ভাগ্যজনক অংশ।”
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁও-এ লস্কর-ই-তৈবার ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। নিষিদ্ধ ঘোষিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির পাকিস্তানের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই হামলার পরেই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এমন স্বীকারোক্তি সামনে এলো।
কিছুদিন আগে স্কাই নিউজকেই দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আরও স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছিলেন যে, পাকিস্তান প্রায় তিন দশক ধরে কিছু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন, প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়ন করেছে। তিনি বলেছিলেন, তারা “প্রায় তিন দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই নোংরা কাজ করে আসছি… এবং ব্রিটেন সহ পশ্চিমের বিশ্ব… এটি একটি ভুল ছিল, এবং আমরা এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি… আমরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং পরে ৯/১১-এর পর যুদ্ধে যোগ না দিতাম, তাহলে পাকিস্তানের ট্র্যাক রেকর্ড নিষ্কলঙ্ক থাকত।”
একদিকে নিজেদের দেশের সন্ত্রাসবাদী যোগের অতীত স্বীকার করার পাশাপাশি, বিলাবল ভুট্টো গতকাল বৃহস্পতিবার মীরপুর খাসে এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতকে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে পাকিস্তান শান্তি চায়, কিন্তু কেউ যদি তাদের উস্কানি দেয় বা “সিন্ধুতে আক্রমণ করে”, তাহলে তাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিলাবল বলেন, “আমরা যুদ্ধের ঢাক বাজাই না, কিন্তু যদি উস্কানি দেওয়া হয়, তাহলে একতাবদ্ধ পাকিস্তানের গর্জন বধির করবে।”
পাহালগাঁও হামলার পর যখন ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসছে এবং পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ছে, তখন সে দেশের শীর্ষ নেতাদের এই পরস্পরবিরোধী বার্তা – একদিকে অতীতের ভুল স্বীকার এবং অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি – পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।