বিগ বস বাংলা থেকে সোজা বাইরে! কলকাতার বিমানবন্দরে নেমেই কোন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন নন্দিনী দত্ত?

বিগ বস বাংলার মঞ্চে তাঁর আকস্মিক ও বিতর্কিত অধ্যায়ের যবনিকা পতন ঘটল। শনিবার মাঝরাতেই মুম্বইয়ের সেট থেকে সোজা কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখলেন জনপ্রিয় প্রতিযোগী নন্দিনী দত্ত। উৎসবের আবহে কালীপুজোর প্রাক্কালে তাঁর এই অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন টলিপাড়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিগ বসের ঘর থেকে যেভাবে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা যেমন হতবাক করেছে তাঁর অগুনতি অনুরাগীদের, তেমনই স্তম্ভিত করেছে গোটা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে। সহ-প্রতিযোগী তথা অন-স্ক্রিন পার্টনার রাজবীরের গায়ে হাত তোলার মতো গুরুতর অপরাধের জেরে শোয়ের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশে মাঝপথেই থেমে গিয়েছে তাঁর বহুচর্চিত বিগ বস যাত্রা।

বিমানবন্দরে পা রাখতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নন্দিনী। ক্লান্ত অথচ সংযত গলায় তিনি অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “অনেক দিন পরে নিজের শহরে কলকাতায় ফিরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। প্রিয়জনদের সামনে দেখতে পেয়ে মনটা জুড়িয়ে গেল। সত্যি বলতে, বিগ বসের ঘরে আমার এই সম্পূর্ণ সফরটা ওঠা-নামা এবং ভালো-মন্দের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিল। তবে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, কিন্তু সেই ভুল করলে তার উপযুক্ত মাশুলও দিতে হবে। এই নিয়ম শুধু অন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, আমার ক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য।”

নিজের বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করে নন্দিনী আরও যোগ করেন, “এই বিষয় নিয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু বলার রয়েছে, তবে সঠিক সময়েই আমি তা সবার সামনে আনব। এখন এটুকুই বলতে পারি যে, আমি বিগ বসের ঘরের একটি অত্যন্ত কড়া নিয়ম লঙ্ঘন করেছি। আবেগের বশে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হয়তো কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে রাজবীর শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কেউ বা প্রেমিক নয়, সে এই রিয়্যালিটি শোয়েরই একজন সমকক্ষ প্রতিযোগী মাত্র। তাই নির্মাতাদের এই সিদ্ধান্ত এবং দর্শকদের রায়ের প্রতি আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। এই ঘটনায় আমার ব্যক্তিগতভাবে আয়োজক বা অন্য কারও বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র কোনো অভিযোগ নেই।”

অন্যদিকে, নন্দিনী ঘর থেকে চিরতরে বেরিয়ে যাওয়ার পর শোয়ের মঞ্চে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজবীর। বিশেষ পর্বে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাদার দরবার’-এ নিজের মনের কথা খুলে বলেন তিনি। রাজবীর সাফ জানান, “আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে নন্দিনী এমন একজন মানুষ, যে চাইলে নিজের ভুল শুধরে নিজেকে বদলাতে পারে। এই ঘরের অন্দরে ও অতীতে বেশ কিছু ভুল করেছিল, যা আমি একজন ভালো বন্ধু ও পার্টনার হিসেবে ওকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলাম। ও সেই ভুলগুলো শুধরেও নিয়েছিল এবং পরে আর সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করেনি। আমি নিশ্চিত যে ও নিজের ভুল খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারবে এবং নিজেকে আরও পজিটিভ করে তুলবে। শো শেষ করে যখন আমি বিগ বসের বাড়ি থেকে বাইরে আসব, তখন নিশ্চিতভাবেই ওর সঙ্গে দেখা করব। ওর সঙ্গে আমার অসমাপ্ত সম্পর্কটা আবারও নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করব।”

যদিও রাজবীরের এই আবেগঘন মন্তব্যের জবাবে শোয়ের সঞ্চালক তথা মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে, যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্ধ ভালোবাসার চেয়ে মানুষের নিজস্ব আত্মসম্মান সব সময় অনেক বেশি বড় এবং প্রয়োজনীয় হওয়া উচিত। সৌরভের এই নিরপেক্ষ ও বাস্তবমুখী মন্তব্য সে সময় সকলের নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে, বিগ বসের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলেও রাজবীর এখনও স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছেন যে, নন্দিনীর অতীতের কিছু দুঃখজনক স্মৃতি এবং মানসিক যন্ত্রণার কথা ও ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে তাঁকে জানাবে বলে কথা দিয়েছিল। রাজবীরের সেই অকৃত্রিম অপেক্ষার পালা এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *