রেস্তোরাঁয় ঢুকতেই খোদ ভূত পরিবেশন করছে খাবার! কাটোয়ার এই ভাইরাল কাণ্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে!

রেস্তোরাঁয় পা রাখতেই সামনে এসে হাজির সাক্ষাৎ ভূত! তবে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার মতো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ এই ভূত কাউকে তাড়িয়ে বেড়াতে নয়, বরং অতিথিদের হাসিমুখে খাবার পরিবেশন করতে হাজির হয়েছে। ভূতচতুর্দশী ও দীপাবলির এই উৎসবের মরশুমে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের সুবোধস্মৃতি রোড এলাকার একটি নামী রেস্তোরাঁয় এমন এক অভিনব ও তাক লাগানো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই গোটা এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে জমজমাট ভৌতিক বিনোদনের এমন মেলবন্ধন উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন সাধারণ মানুষ।
রেস্তোরাঁর অন্দরে পা রাখতেই ভূতের সাজে সজ্জিত সার্ভিস বয়দের দেখে প্রথমে অনেকেই চমকে উঠছেন। কেউ ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন, তো কেউ আবার হেসেকেটে পুরো বিষয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। ভূতের চরিত্রে অভিনয় করা সার্ভিস বয় আজহার সিদ্দিকি জানিয়েছেন, “একেক দিন একেক রকম সাজে সেজে কাজ করছি। ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করতে এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে দারুণ লাগছে। অনেকে আবার খাবার দেওয়ার ফাঁকে আমার সঙ্গে ছবিও তুলছেন।” সাধারণত যেকোনো রেস্তোরাঁতেই সাধারণ কর্মীরা খাবার পরিবেশন করেন, কিন্তু কাটোয়ার এই রেস্তোরাঁ সেই চেনা ছক ভেঙে এক নতুন ট্রেন্ড তৈরি করেছে।
রেস্তোরাঁটির কর্ণধার স্নেহা ঘোষের মতে, কাটোয়া শহরে এর আগে এমন অদ্ভুত ও অভিনব থিম বেসড রেস্তোরাঁর অভিজ্ঞতা কারও হয়নি। শহরের মানুষকে নতুন কিছু উপহার দেওয়ার কথা মাথাতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আর এই ইউনিক আইডিয়ার জেরে বর্তমানে রেস্তোরাঁর বিক্রি ও জনপ্রিয়তাও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ছোট ছোট অতিথিরা প্রথমে একটু ভয় পেলেও বড়রা বেশ মজা করেই এই থ্রিল উপভোগ করছেন। শুধু ভূতচতুর্দশী নয়, উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে ভাইফোঁটা পর্যন্ত এই বিশেষ পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই রেস্তোরাঁয় গেলে এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকা যাবে। কাটোয়ার এই অভিনব রেস্তোরাঁ এখন খাদ্যরসিকদের কাছে হট ফেভারিট হয়ে উঠেছে।