বাজি ফাটাতে গিয়ে চোখে ঢুকল বারুদ? মুহূর্তের একটি ভুলেই অন্ধত্বের আশঙ্কা, দেখুন চিকিৎসকের জরুরি টিপস!

কালীপুজো মানেই আলোর সমারোহ ও আলোর উৎসব, আর আলো মানেই বাজি ফাটানোর এক উন্মাদনাময় আনন্দ। কিন্তু আনন্দের এই চরম মুহূর্তেই অসাবধানতাবশত অনেক সময় ঘটে যায় মারাত্মক সব দুর্ঘটনা। বাজি ফাটানোর সময় হঠাৎ তুবড়ি কিংবা রংমশাল থেকে গরম বারুদ বা আগুনের ফুলকি ছিটকে সোজা চোখে ঢুকে যাওয়া খুব চেনা এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ঘটনা। উৎসবের এই আনন্দের রাতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অনেকেই ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং ভুল পদক্ষেপ নিয়ে বসেন। ঠিক এই বিষয়েই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে অত্যন্ত জরুরি ও কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্পণ সাহা। তাঁর মতে, বাজির বিষাক্ত বারুদ বা আগুনের ফুলকি চোখে ঢুকে গেলে বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত কয়েকটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম ও প্রধান কাজ হলো চোখে অবিরত জলের ঝাপটা দেওয়া। চিকিৎসক অর্পণ সাহা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, যদি কখনও বাজির কোনো গরম টুকরো, কেমিক্যাল বা বারুদ চোখে পড়ে, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখে বারবার ঝাপটা দেওয়া উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিষ্কার ও ঠান্ডা জল দিয়ে চোখ ভালো করে ধুয়ে ফেললে চোখে জমে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে যায় এবং প্রাথমিক সমস্যা অনেকটাই মিটে যায়। তবে এই সময়ে একটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা দরকার—চোখে প্রবল জ্বালাভাব কিংবা অস্বস্তি হলেও ভুল করেও হাত দিয়ে চোখ জোরে ডলাডলি বা রগড়ানো যাবে না। চোখে হাত দিয়ে রগড়ালে ভেতরে থাকা তীক্ষ্ণ বারুদ কর্নিয়ায় আঁচড় কেটে বিপদ বহু গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

অবিরাম জলের ঝাপটা দেওয়ার পরও যদি চোখের অস্বস্তি পুরোপুরি না কমে, সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বস্তির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে উপযুক্ত আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসকের নির্ধারিত সাধারণ লুব্রিকেটিং ড্রপ চোখে দিলে ভেতরের জ্বালাভাব ও লাল ভাব অনেকটাই কমে আসে।

তবে সব ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে থাকা ঠিক নয়। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে ছুটবেন? জল দিয়ে চোখ ধোওয়ার পর কিংবা চোখে ড্রপ দেওয়ার পরও যদি চোখ খিটখিট করতে থাকে, দৃষ্টি ঝাপসা লাগে বা অনবরত তীব্র জ্বালা করে, তবে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক অর্পণ সাহা বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাজির বারুদের মধ্যে রাসায়নিক ছাড়াও অনেক সময় ক্ষতিকর আয়রন বা লোহার সূক্ষ্ম গুঁড়ো থাকে। এই রাসায়নিক বা লোহার কণা চোখের সংবেদনশীল কর্নিয়া কিংবা চোখের মণির কালো অংশে আটকে গেলে দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সামান্যতম অস্বস্তি স্থায়ী হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আলোর উৎসবের আনন্দ যেন অসাবধানতার কারণে কারও জীবনে ঘোর অন্ধকার ডেকে না আনে। বাজি ফাটানোর প্রতি পদে সতর্ক থাকা ভীষণ দরকার। বিশেষ করে পরিবারের খুদেরা যখন বাজি ফাটায়, তখন প্রাপ্তবয়স্কদের কড়া নজরদারি রাখা জরুরি। চোখ আমাদের অমূল্য সম্পদ, তাই উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি চোখের সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা একদমই উচিত নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *